মোহাম্মদ শাহিন, মাদারগঞ্জ, জামালপুর।
মাদারগঞ্জে ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কার্ডের মাধ্যমে দুস্থ নারীদের মধ্যে মাপে কম পরিমাণ চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সিধুলি ইউনিয়নে গত বুধবার এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দুস্থ প্রত্যেক নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও গত মাসে চাল বিতরণ না করে চলতি মাসে সিধুলি ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের দুই এলটের মাধ্যমে ৬০ কেজির পরিবর্তে ৫৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার ওই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে এ চাল বিতরণ করা হয়। স্থানীয় পশ্চিম চরভাইটেন এলাকার সুবিধাভোগী রবিউলের স্ত্রী সাহিদা,শিরিনা,লিলি সহ অনেকেই বলেন তাদের ভিজিডির ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে ৫৫ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের মোট ৩৮৮ জন ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ নারী রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের ইউপি ভবন থেকে বস্তায় ভরা ও খোলা অবস্থায় এ চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা বস্তা মেপে দেখা যায়, প্রতি নারীকে ৬০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতি বস্তায় চাল রয়েছে ৫৫ কেজি ।
মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বলেন, সিধুলি ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের মাঝে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়েছে কিন্তু আমি উপস্থিত ছিলাম না। চল বিতরণের অনিয়ম বিষয়ে জানতেই চাইলে তিনি বলেন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার হিসাবে নিয়োজিত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সাইদুর উপস্থিত থাকার কাথা ছিলো কিন্তু চেয়াম্যান তাকে না জানিয়ে ভিজিডির চাল বিতরণ করেছে। চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, ইউএনও স্যারকেও বিষয়টি জানিয়েছি। তবে এখন চাল বিতরণ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
এবিষয়ে সিধুলি ইউপির চেয়ারম্যান মিরণের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
তবে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার জগলু চাল কম দেওয়ার বিষয়ে বলেন ৬০ কেজি জায়গায় হয়তো দুএক কেজি কম গেছে। আসলে পাবলিক ফাংশন একটু এদিক সেদিক হবেই। তিনি আরও বলেন ট্যাগ অফিসার না থাকার জন্য ৩,৪,৬,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের ৭০ থেকে ৮০ জন নারীর মাঝে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হলে পরে তা চেয়াম্যানের আদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গুদাম থেকে মাপে চাল কম দেওয়া হয়নি’—দাবি করে খাদ্যগুদামের আই এসডি ওয়াহেদ বলেন, আমরা ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে ইউপি চেয়াম্যানকে সাথে রেখে মাথা পিছু একটি করে বস্থায় ৩০কেজি চাল প্রতি মাসে দিয়ে থাকি। এখানে কম বা বেশি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি আরও বলেন দুই এলট চাল দেওয়ার কুনো সুযোগ নেই। বিতরণের নির্দেশনায় আছে প্রতি মাসে এক এলট ৩০কেজি চাল বিতরণ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ইলিশায় রিছিল বলেন, ‘এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply