সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জিম্মি হাটহাজারী পৌরবাসী

বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জিম্মি হাটহাজারী পৌরবাসী

মোঃ আবু তৈয়ব. হাটহাজারী ( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অষ্টম শ্রেণি পাশ বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারকে দিয়ে চলছে হাটহাজারী পৌরসভার বিভাগ। ডিজিটাল যুগে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হল বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রতিটি পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে ২ জন উপ সহকারী প্রকৌশলী থাকলেও হাটহাজারী পৌরসভায় নেই কোন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ পৌরবাসীর।

এমনকি এ মনোয়ারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হলেও বহাল তবিয়তে আরও দাপুটে হয়ে উঠে এ মনোয়ার এমন দাবী বাসিন্দাদের।
মোটর সাইকেল চালিয়ে চলেন অফিসারের মত। কখনো পৌরসভায় আবার কখনো উপজেলা সবখানেই বিরাজ করেন বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন। সবাই তাকে অফিসার মনে করেন। তার চাল-চলনে দেখে কেউ বুঝতে পারবেনা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পৌরসভার কর্মকর্তা নাকি কর্মচারী। আর বুঝবই বা কি করে যারা বুঝার এবং জানার তারা নিরব? কেন এমন তা স্পষ্ট প্রতিয়মান বলে জানান পৌর নাগরিকরা।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, পৌরসভার পশ্চিমে ফায়ার সেন্টারের পরে মনোয়ার, সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ খান এবং সাবেক পিআইও নিয়াজ মোরশেদসহ আরো কয়েকজনে মিলে কিনেছেন জায়গা। সেখানে যাওয়ার জন্য করেছেন মজবুত করে রাস্তা ও আরেক জায়গার ব্রীজ। গড়েন অনিয়মের পাহাড় জিম্মী করেন পৌরসভা আর উপজেলা। চলে তাদের আধিপাত্য গড়েন তারা অনিয়মের সিন্ডিকেট। আবার সেগুলোকে ঢেকে রাখতে প্রচার করেছেন ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গার জন্য এ রাস্তা কিন্তু ব্রীজ ডাকতে নেই কোন অজুহাত।
১৬তম গ্রেডে অষ্টম শ্রেণি পাশ বিদ্যুৎ লাইনম্যান ৯৩০০ মূল বেতন সব মিলে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পায় প্রতি মাসে। থাকেন বিলাষবহুল ফ্ল্যাটে যার আনুমানিক ভাড়া ১২ হাজার। এরপর আনুষাঙ্গিক সব খরচ মিলে দাড়ায় ৩০/৪০ হাজার টাকার ও বেশি, ছেলে মেয়েদের পড়ান ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যে স্কুলের পড়াশোনার খরচ অধিক। আমরাও তো একই গ্রেডের চাকরি করি কিন্তু চলতে কিছুটাও হলে কষ্ট হয়। কেবল তা নয় সে প্রতিদিন ৭ নং রুমে বসে বসে হিসাব করে। আমরা গেলে কিংবা দেখলে তাড়িয়ে দেয়। এমন কি সে যা বলে সেটাই হবে। এমন কথা বললেন পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী।

পৌরসভা কার্যালয় এলাকায় মনোয়ার সুপারভাইজার হিসেবে পরিচিত। তার দাপটে পৌরবাসীরা তটস্থ থাকেন। এতে পৌরসভার নাগরিকদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ সেবাপ্রার্থীদের।
মনোয়ার মোটরসাইকেল নিয়ে সারাদিন পৌরসভার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে দাপিয়ে বেড়ান শুধুই তা নয় কর্মরত সকল কর্মচারীরা তাকে স্যার বলেও সম্বোধন করেন এমন অভিযোগ ব্যক্ত করেন নাম প্রকাশে একাধিক যুবক।
পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার হিসেবে মনোয়ার মাঠে প্রকল্পের সাইটে ব্যস্থ থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। সরকারি চাকরি করেও মনোয়ার কীভাবে ঠিকাদারী কাজ করেন এ প্রশ্ন অভিযোগকারীদের।
শুধু তাই নয়, অষ্টম শ্রেণি পাস বিদ্যুৎ লাইনম্যানও জায়গা কিনেছেন এ পৌরসভায়। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পৌরসভা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত থেকে প্রায় ১০ লক্ষ্য টাকার অধিক নিয়ে সিন্ডিকেট করে ভাগ বন্টন করার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী সরকারি কর্মচারিদের এসব অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পৌরসভায় কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, পৌরসভার সব কাজের বেশির ভাগ বিল মনোয়ারের নামে হয়। বিল বই কিংবা ক্যাশ বই দেখলেই বুঝবেন বিলে তার স্বাক্ষর। যদি মনোয়ার কে ম্যানেজ করা যায় অন্যায় করলেও ছাড় পাওয়া যাবে। ধরতে গেলেই তিনিই সব এ পৌরসভায়। তার গ্রামের বাড়ীতে তৈরী করেছেন দালান কোঠাও। আমরা এটাও শুনেছি তার নাকি কক্সবাজারে জায়গা আছে। চট্টগ্রাম শহরে ২টা জমির উপর কাজ চলছে তন্মধ্যে নগরীর ফয়েজলেক আব্দুল হামিদ সড়কে স্বপ্নছায়া ও স্বপ্নধারা নামে ফ্ল্যাট ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে মনোয়ার তাঁর যোগানদাতা পৌরসভার প্রধান সহকারী সাহাব উদ্দিন,
আক্রাম হোসেন ও মুমিন সিন্ডিকেট।

পৌরসভার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা উদয় সেন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন “হাটহাজারীর মানুষকে বোকা বানিয়ে কিছু দালাল সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে পৌরসভার লাইনম্যান মনোয়ারের মাধ্যমে অনেক টাকার ধান্দাবাজি করেছে। তার একটি প্রমাণ হল আনোয়ার কোম্পানি থেকে মনোয়ার ৫ লাখ টাকা নেন সাবেক ইউএনওকে ম্যানেজ করতে। কাজ না করেই মনোয়ার সে টাকা আত্মসাৎ করে। সে ৫ লাখ টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকা আনোয়ার কোম্পানিকে দিলেও বাকি টাকা সে এখনও দেয়নি”।
গোপন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র কথা বলে টাকা তোলেন এ মনোয়ার। এ সুযোগে মনোয়ার হয়ে উঠে সবার কাছে স্যার। পৌরসভার সন্দীপ পাড়া স্কুলের দুইটি দোকান সে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে নিজেই ভোগ করে বলে জানা যায়।

পৌর সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, আমরা নামমাত্র সদস্য। কারণ বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি তার জন্য আমাদের কে তেমন ডাকেন না এবং ডাকলেও যায় না। পৌরসভার শুরুতে সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আর মনোয়ারসহ যারা চাকরিতে যোগদান করেছেন অদ্যবধি পর্যন্ত তারা কর্মরত রয়েছেন। তো তারা দূর্নীতি না করে কে করবে। শুধু তা নয় হাটহাজারীতে কোন সরকারী কর্মকর্তা আর কর্মচারী আসলে সহজে যেতে চান না। কারণ এখানে অনিয়ম আর দূর্নীতি করা খুবই সহজ।

গোপন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র কথা বলে টাকা তোলেন এ মনোয়ার। সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র সাথে ছিল তার খুবই সখ্যতা। সে সখ্যতা গড়ে তুলার জন্যে ইউএনও’র কন্যার জন্মদিনে ও পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ১ভরি স্বর্ণের চেইন,আংটি সহ বিলাসবহুল আরও অনেক উপহার হিসেবে থাকতো এই মনোয়ারের পক্ষ থেকে। এ সুযোগে মনোয়ার হয়ে উঠে সবার কাছে স্যার।

পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে জানান, এখানে আসলে কেবলমাত্র সিভিল বিভাগে প্রকৌশলী আছেন। বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নেই। শুধু আমি একজন লাইনম্যান আছি এবং মাস্টার রুলে ৩ জন হেল্পার আছেন। আমার ব্যাপারে কে কি বলে তা বলতে পারব না। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। তবে আমি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করি।

ফেসবুকে পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারকে নিয়ে করা কমেন্টস এর বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি উদয় সেন বলেন, যেটা লিখেছি সেটা খুবই সামান্যটা লিখেছি। আনোয়ার কোম্পানি থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে তা নয়। এ মনোয়ার পৌরসভার সব কাজেরই ঠিকাদারী করে। আপনি আরও শুনলে অবাক হবেন। পৌরসভার হিসাব সহকারী সাহাব,একরাম ও মনোয়ারসহ মিলে ফয়েস লেকে ফ্ল্যাটের ব্যবসা করে। তারা এখানে চাকরি করে কিভাবে আবার ফ্ল্যাটের ব্যবসা করে। আরেকটি কথা বলি পৌরসভার যতগুলো পাবলিক টয়লেট আছে। সবগুলোর কাজ ও পরিচালনা করে এই মনোয়ার।

হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান বলেন, মনোয়ার কেন সবাই তো পৌরসভাকে চুষে খেয়ে ফেলছে। এখানে অনেক সাংবাদিক আছে কেউ এ সব বিষয় নিয়ে কোন কথাই বলে না কিংবা লেখে না। কেন লিখে না তা শুধু আমরা নয় সকল পৌরবাসীরাই জানেন। আমাদের পরে গঠিত হওয়া সব পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আমাদের পৌরসভায় নির্বাচন না হওয়ার কারণে নাগরিকরা কাংঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। এ সুযোগে মনোয়ার গংরা লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে। তারপরও পৌরসভায় যারা সহায়ক কমিটিতে আছে, তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বিদায় করে দেয়। তাই প্রতিবাদ করার কেউ নেই। কেবল আমিই সব কিছুতেই প্রতিবাদ করেই যাচ্ছি।

পৌর সচিব বিপ্লব চন্দ্র মুহরী বলেন, জনবল সংকট থাকায় মনোয়ার হোসেন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করে। এখন পর্যন্ত পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে একজন বিদ্যুৎ লাইনম্যান আছে। এছাড়াও মাস্টার রুলে ৩ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মনোয়ার কি করে তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসক মো: শাহীদুল আলম বলেন, আমি আসার পর থেকে আশাকরি পৌরসভায় বিদ্যুৎ বিভাগের তেমন সমস্যা হয়নি। এর আগে কি হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। পৌরসভার যেখানে লাইটের সমস্যা সেটা তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। যদি পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কোন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের সুযোগ থাকে, তাহলেই সেটাই আমি দেখব। আমি দ্বায়িত্ব নেওয়ার আগে কে কি করেছে তা আমার জানা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com