মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লার দাউদকান্দির কালাডুমুর নদী এখন আবজর্নার নদীতে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয়রা ফেলছে এসব ময়লা আবজনা। আবজর্নার ভাগাড় বানিয়ে নদী দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র। যে নদীটি দাউদকান্দি, মুরাদনগর, চান্দিনা এবং কচুয়া উপজেলার প্রায় পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমি চাষের পানি ব্যবহার করা হতো সেটি এখন আাবজনার ভাগাড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে। গঠন হয়েছে কালাডুমুর নদীটি সুরক্ষা আন্দোলন কমিটি।
জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন গোমতী নদী থেকে কালাডুমুর নদের উৎপত্তি। ২৩ কিলোমিটা দীর্ঘ কালাডুমুরে একসময় বর্ষায় মালবোঝাই নৌকা, ইঞ্জিন চালিত বড় বোট এবং কার্গো চলাচল করত। সবধরনের মালামাল নৌপথে পরিবহন করত। কালের ব্যবধানে সে সব দিন এখন হারিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কালাডুমুর নদীর উৎস স্থলের পাশে গৌরীপুর সুবল -আফতাব উচ্চ বিদ্যালের সামনে মাইথারকান্দি খালের মুখে গৌরীপুর বাজারের সমস্ত নাগরিক বর্জ্য, পলিথিন-প্লাস্টিক ফেলে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করে ফেলেছে। একটি চক্র ময়লা আবজনা ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিনত করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাছাড়া নদীটি দীর্ঘদিন পূনঃখনন না করায় বালি পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বোরোধান আবাদে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
আদমপুর গ্রামের কৃষক মোঃ রোশন আলী পুটিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ আক্তারুজ্জামান সিংগুলা গ্রামের কৃষক মোঃ রহিম মোল্লা বলেন, কালাডুমুর নদী আমাদের অস্তিত্ব। আমাদের জীবন জীবিকা নির্বাহের অনত্যম উৎস। কালাডুমুর নদী পানি শুকিয়ে গেলে আমাদের চোখে অন্ধকার নেমে আসে। কারন কালাডুমুর নদীর পানি দিয়ে আমরা বোরোধান উৎপাদন করে সারা বছরের খাদ্যের ব্যাবস্থা করি। আমরা এর পূনঃখনন এবং দখল দূষণ ময়লা আবর্জনা মুক্ত রাখার জন্য দাবী জানাচ্ছি।
কালাডুমুর নদী দখল-দূষণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পূনঃখননের জন্য দাউদকান্দির আদমপুর গ্রামের দুই বার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষি, পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠক মতিন সৈকত গঠন করেন কালাডুমুর নদীটি সুরক্ষা আন্দোলন কমিটি।
মতিন সৈকত বলেন, কালাডুমুর নদী পূনঃখননের জন্য ১৯৯০ সাল থেকে ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছি। বিশ বার সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কোদাল মিছিল, প্রতিকী অনশন, নদী মেলা, নদী অলম্পিয়াড করে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করেছি। ফলে কালাডুমুর নদের ১১ কিলোমিটার পূনঃখনন শুরু হয়েছে। আগামী বছর বাকি অংশ পূনঃখননের কথা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, একদিকে আমার নদী কালাডুমুর পূনঃখনন করাচ্ছি অন্যদিকে কালাডুমুর নদীকে দখলে দূষণে ময়লা আবর্জনার ভাগাড় বানিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে কালাডুমুর নদীর সুরক্ষার জন্য আন্দোলন করছি।
স্থানীয় ইলিয়ট গঞ্জ দক্ষিন ইউপি চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ বলেন, এ নদীটিতে বিভিন্ন ব্যাক্তি অবৈধভাবে স্থায়ী ইমারত নির্মান করছে। অনেকে ময়লা আর্বজনা ফেলে, বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্ঠা করছে। এ বিষয়টি আমি উপজেলা নিবার্হী কর্মকার্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। অচিরেই নদীটি খনন না করা হলে তা দখল হয়ে যাবে।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান বলেন, এ নদীটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এ খননের জন্য কয়েকবার ডিও দিয়েছি। এ নদীটি দখলের কোন সংবাদ পেলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। নদী খনন ও অবৈধ স্থাপনা উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, কালাডুমুর নদীটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ নদীটি খনন কাজ শুরু হয়েছিলো। বর্ষার কারনে বন্ধ রয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি খনন করা হবে।
Leave a Reply