ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের সিমান্তবর্তী প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ এখন শিয়াল আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।ইতিমধ্যেই শিয়ালের কামড়ে নারী শিশুসহ অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই ১০ ব্যক্তি শিয়ালের হিংস্র আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শিয়ালের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে বৃহস্পতিবার সকালে মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, গুরুদাসপুর-মানিকপুর সড়কের বড়াইগ্রামের ইকড়ি-টালিরভাটা সংলগ্ন পঞ্চগ্রাম কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় শতাধিক শিয়ালের বাস।
এরআগে কবরের লাশ তোলাতেই সিমাবদ্ধ ছিল শিয়ালগুলো। কিন্তু এখন বিক্ষিপ্ত হয়ে শিয়ালগুলো স্থানীয় নারী-শিশু, পথচারী এবং গরু-ছাগল কামড়ে আহত করছে। এতে করে গুরুদাসপুরের সোনাবাজু, ঝাকড়া, ইদিলপুর, নওপাড়া ও বড়াইগ্রামের রাজাপুর, ইকড়ি, রামকান্তপুর, জালশুকা, ফুলবতি এলাকার মানুষ শিয়াল আতঙ্কে রয়েছেন।
এক সপ্তাহে শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন ইকরি গ্রামের শিশু মোবারক হোসেন (৭), রামকান্তপুর গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম (৪৫), আয়ুব আলী (৪০), রাজাপুর গ্রামের গ্রামের ঝর্ণা বেগম (৫০), খিদিরপুর গ্রামের শান্তসহ (১৬) অন্তত ১০ জন। এরমধ্যে শিশু মোবারকের হাতে এবং দুই পায়েই সেলাই রেেছ। তাছাড়া শিয়ালের আক্রমণে আকবর আলীর বাম হাতের একটি আঙ্গুল নষ্ট হয়ে গেছে।
ইকরি কবরস্থান সংলগ্ন বাসিন্দা আব্দুল খালেক, জনাব আলী ও বাছিয়া বেগমসহ অন্তত ১০ জন জানান, আগে রাত আসলেই শিয়ালের ডাক ভেসে আসতো কবরস্থান থেকে। হঠাৎ করেই শিয়ালগুলো ক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন দিনের বেলাতেও লাঠি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাতে শিয়ালের ভয়ে ঘর থেকে বের হতেও পারছেন না। তাছাড়া গবাদি পশুগুলো ঘরের বাহিরে নেওয়া যাচ্ছেনা। তারা এই আতংকিত জীবন থেকে মুক্তি চান।
ইকরি পঞ্চগ্রাম কবরস্থান কমিটির সভাপতি জমসেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কবরস্থানে শিয়ালগুলোর বাস। স্থানীয়দের পাশাপাশি কবরস্থানের পাশের সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে পচারীরাও শিয়ালের হিংস্র আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু শিয়ালের উৎপাত থেকে ১০ গ্রামের মানুষদের রক্ষায় সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই করস্থান সংলগ্ন সড়কে একদল শিয়াল স্থানীয় কয়েক যুবকের ওপর আক্রমণ চালায়। এসময় আত্মরক্ষার্তে স্থানীয়রা একটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যা করে। বিষয়টি নিয়ে তাদের জড়িয়ে স্থানীয় আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শিয়াল আতংকের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের এই মামলায় তারা নতুন সংকটে পাড়েছেন।
বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন জানান, শিশুও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। শিশুদের একা পেলেই আছড়ে কামড়ে গুরুত্বর আহত করছে শিয়ালগুলো। শিয়ালের উৎপাত থেকে রক্ষায় সরকারিভাবে ব্যবস্থার পাশাপাশি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এলাকাবাসির অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।
Leave a Reply