কুমিল্লা ব্যুরো:
কুমিল্লা মর্ডান প্রাইমারি স্কুলের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার রিমা। বাবা মায়ের সাথে নগরীর কান্দির পাড় একটি জুতা দোকানের শো-রুমে এসেছেন স্কুল জুতা কিনতে। তার স্কুলের জন্য জুতা কিনা হয়েছিলো দুবছর আগে। দেড় বছর ছিলো স্কুল বন্ধ । পুরোনা জুতা এখন পরার উপযোগী নয়। আরেক শিক্ষার্থী রাফি কুমিল্লা মর্ডান হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী । সেও জুতা দেখছেন।
আরেক শিক্ষার্থী কুমিল্লা গুল বাগিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী মুনজেরিন চৌধুরী। স্কুল খোলার খবরে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতোসহ অন্যান্য সামগ্রীর কেনাকাটার জন্য খোজ খবর নিচ্ছেন। তাদের মত এমনি অনেক শিক্ষার্থী কেনাকাটার জন্য এসেছেন। অভিভাবকদের নিয়ে ঘুরছেন দোকানে দোকানে। ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলবে । দেড় বছর পর স্কুলে যাবে। এ যেন তাদের মহা উৎসব। তাই উৎসবের কেনা কাটা করছেন তারা।
কুমিল্লা মর্ডান স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী মুবাশ্বিরা মাশিয়াত বলেন, স্কুল খুলছে তাই কিছু কেনাকাটা করেছে। সহপাঠিদের সাথে দেখা হবে। শিক্ষকদের ক্লাস করতে পারবো। বাসা থেকে বের হওয়া যাবে সব মিলিয়ে স্কুল খোলার দিন গুনছি।
কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা হাবিবা রহমান জানান, দু বছর আগে বানানো ড্রেস এখন বাচ্চার গায়ে লাগছেনা, তাই নতুন করে জামা তৈরী করতে এসেছি। বই খাতা ছাড়া সব কিছুই নতুন করে কিনতে হচ্ছে।
নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান আশিক বলেন, তার সন্তান সামিয়া রহমান আভা স্থানীয় ইকরা স্কুল এন্ড মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। স্কুল খুলবে তাই আগ থেকেই ড্রেস বানিয়ে দিয়েছেন।
নগরীর কান্দিরপাড় বাটা শো-রুমের বিক্রয় কর্মী আজিজুল হক জানান, দীর্ঘ দিন পর দোকানে কিছুটা কেনাকাটা শুরু হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা জুতা কিনছেন। তবে জানুয়ারিতে আমরা আগে প্রতিদিন দু থেকে আড়াইশো জোড়া জুতা বিক্রি করতাম এখন এক থেকে দেড়শ জোড়া প্রতিদিন বিক্রি করছি।
মনোহরপুরের প্রিয়া টেইলাসের মালিক মিজানুর রহমান জানান, করোনাকালিন সময়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। এখন কিছুটা কাজ করতে পারছেন। স্কুল শিক্ষার্থীদের কাপড় বানানোর কাজটি অতিরিক্ত কিছু পাওয়া মনে করছেন।
নগরীর থিরাপুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাম্মদ নাছিমা আক্তার বলেন, অনেকদিন শিক্ষা কাযক্রম স্থম্ভিত হয়ে আছে। অবশেষে আমাদের প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসবে এটা আমাদের মহা আনন্দ। আমরাও তাদের বরণ করতে প্রতিষ্ঠান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরী করেছি। অনেক শিক্ষাথী প্রতিদিন আমাদের কল দিয়ে আসার ব্যকুলতা প্রকাশ করে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের বরণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষদের এই মহা আনন্দের অপেক্ষাই সবাই। আমরা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছি যাতে ছাত্রছাত্রীদের বরণ করে নেয়। একটি ফুল অথবা একটি চকলেট দিয়ে হলেও তাদের বরণ করে নেওয়া হবে।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর পর খুলছে। এ নিয়ে উচ্ছাসিত শিক্ষার্থী- শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
জেলায় দুই হাজার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,দুই হাজার ১৭৬টি কিন্ডার গার্ডেন, ৬০৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৬২ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে সরকার।
Leave a Reply