শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
ফেসবুকে মানবিক আবেদনে প্রতারণার ফাঁদ

ফেসবুকে মানবিক আবেদনে প্রতারণার ফাঁদ

সোহেল রানা,সাভার(ঢাকা):

দয়া করে কেউ এড়িয়ে যাবেন না, সাহায্য করতে না পারলেও দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে কোনো দানশীল ব্যক্তির নজরে আসে। মাত্র আড়াই লাখ টাকার অভাবে শিশু ইমনের চিকিৎসা করতে পারছেনা তার দরিদ্র বাবা। প্রায় ৩ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে এমন একটি স্ট্যাটাস। যা দেখে মন কেঁদেছে অনেকরই। প্রতারিতও হয়েছেন অনেকেই। আবার প্রতারণা জেনে অনেকে সাহায্য করতে গিয়েও ফিরে এসেছেন। বড্ড ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এই ধরনের কৌশলী প্রতারণার ফাঁদ।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে শিশু ইমনের চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য সংবাদ প্রকাশ হয়। যেখানে শিশুর বাবা হিসাবে মিকাইল নামের এক ব্যক্তির ফোন নম্বরসহ প্রকাশ করা হয়। ঘটনা উদঘাটনের জন্য অনুসন্ধানে নামে সাংবাদিকরা। 
প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশু ইমনের বাবা মিকাইল নামের ওই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হয়। মিকাইলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ইমন আমার ছেলে। ইমনের পেটে প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের একটি টিউমার হয়েছে। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার হামিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন বলে পরিচয় দেন। তিনি আরও বলেন, নরসিংহপুরের বাংলাবাজার এলাকার নওশের আলীর বাড়িতে প্রায় ১১ বছর ধরে ভাড়া থাকেন। এর পর তাকে অসংখ্যবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেন নি।
সন্দেহ হলে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অনুসন্ধানে যায় সাংবাদিকরা। ওই এলাকার বাংলাবাজারে গিয়ে মিকাইলের ভাড়াবাড়ির সন্ধান করলে বাড়িওয়ালা নওশের আলীর খোঁজ মেলে। কিন্তু তিনি প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। তাদের তিনটি বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হলে জানা যায়, একটি বাড়িতে থাকেন নওশের আলীর ছেলে শমশের সরকার। সেখানে মিকাইলের খোঁজ মেলেনি। পর পর নওশের আলীর ছেলে বরকত আলী সরকার ও তার ভাগনের হাফিজুর রহমানের বাড়িতে খোঁজ নিলে এই নামের কেউ থাকেন না বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মৃধা প্রতিবেদককে বলেন, এমন এঘটনা আমাদের এলাকায় থাকলে আমরা অবশ্যই জানতাম। এলাকায় এমন ঘটনা হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হতো। আমরা আজ আপনাদের কাছে শুনলাম। কিন্তু এমন ঘটনা কিংবা এমন রোগী আমাদের এলাকায় নেই। এরা প্রতারক চক্র বলেও অভিহিত করেন তিনি।
মিকাইল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাড়িওয়ালার নামসহ পরিচয় দেন। অন্য ফোন নম্বর দিয়ে ফোন দিলে তিনি সাইফুল জোয়াদ্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন বলে জানান। কিন্তু ওই এলাকায় এই নামের বাড়িওয়ালার সন্ধান মেলেনি।
এব্যাপারে সহযোগিতা করতে গিয়ে ফিরে আসা সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ম্যান ফর ম্যানের প্রতিষ্ঠাতা রাজিবুল হাসান প্রতিবেদককে বলেন, একই ছবি দিয়ে প্রায় দুই বছর আগে একটি সহযোগিতা চেয়ে পোস্ট দেখতে পাই। আমরা তাকে সহযোগিতা করতে চাই। তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে। ঢাকা মেডিকেলে যোগাযোগ করা হলে এমন কোন রোগী ভর্তি নাই বলে জানা যায়। পরে অসংখ্যবার ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তিনি আর রিসিভ করেন নি। তিনি শুধু বিকাশে টাকা চান। কিন্তু শিশুটিকে দেখে টাকা প্রদানের কথা বললেই আর ফোন রিসিভ করেন না। একই সাথে ছবিটি দিয়ে আমরা আমাদের গ্রুপে পোস্ট দেই। কিন্তু পরক্ষণেই এই ছবি ভারতের বলে অনেকে আমার কাছে স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দেন। সেখানে হিন্দি ভাষায় পোস্ট করা ছিল। 
সাভার সিটি সেন্টারের ব্যবসায়ী রনি হক বলেন, একই ছবির পোস্ট দেখে আমরা ৫০ হাজার টাকা দিতে চাই। কিন্তু তার বাসায় কিংবা দেখা করে টাকা দিতে চাইলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেন নি। এটা একটা প্রতারক চক্র। এরা অনেক ভাল মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ বলেও দাবি করেন তিনি।
ফেইসবুকের বিভন্ন গ্রুপের পোস্টে একটি ছবি দিয়ে লেখা হয়, শিশুটির বয়স মাত্র তিন বছর। গত প্রায় চার মাস থেকে শিশুটির তলপেটের ভিতরে টিউমার বড় হতে থাকে। এতদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও টিউমারের বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তবে ডাক্তার বলেছেন শিশুটির উন্নত চিকিৎসা করানো হলে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। দরিদ্র বাবা সামান্য গার্মেন্টস শ্রমিক এত টাকা কোথায় পাবে ? স্থানীয়ভাবে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ব্যবস্থা হয়েছে। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে আমাদের যার যা সামর্থ আছে তাই দিয়ে শিশুটিকে সাহায্য করি ।
মোহাম্মদ মিকাইল হোসেন সাতক্ষীরা জেলার দিয়াভাটা থানার ডাউলিয়া গ্রাম থেকে ১১ বছর আগে শহরে আসেন বলে জানান।
এব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটির (আশুলিয়া) সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ ইমাম বলেন, ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে এখন অসাধু চক্র ব্যবসা শুরু করেছে। মানুষের সহানুভূতিকে পুঁজি করে এই চক্ররা ব্যবসা করে আসছে। মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে ফেইসবুক। কাউকে সহযোগিতা করতে হলে অবশ্যই ফেইসবুকের পোস্ট দেখে নয়, খোঁজ নিয়ে তাদের সান্নিধ্যে গিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই এসব চক্র হারিয়ে যাবে। প্রয়োজন শুধু আমাদের একটু সচেতনতা। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com