শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ঘুষ দাবি করে না পেয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই দুইটি দোকান ঘর ভেঙ্গে ও মালামাল নষ্ট করে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি স্বাধন করেছেন।
এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাদিম হোসেন।
নাদিম হোসেন মনমথ বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত মনোয়ার হোসেন এর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী নাদিম হোসেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বানিজ্যিক লাইসেন্স বাবদ অর্থ পরিশোধ পূর্বক রেলওয়ের জায়গায় আধা পাঁকা দুইটি ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবত কাপড় ও কনফেকশনারীর ব্যবসা করে আসছিলেন।
এই ব্যবসা ছিল তার জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ।
এমতাবস্থায় প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনের উন্নয়ন কাজের জন্য নাদিমের দোকান ঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেন।
সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্বেও দোকান ঘর দুইটি না ভাঙ্গার জন্য প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
এসময় নাদিম ও তার লোকজন ঘুষ দাবির প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ও তার লোকজন প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে গত ৫ জুন হাতুরী ও সাবল দিয়ে দোকান ঘর দুইটি গুড়িয়ে দিয়ে দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের মালামাল নষ্ট করেন।
এতে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
দোকান ঘর ভাঙ্গার বিষয়ে রেলওয়ের নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
কোন নোটিশ দেয়া হয়নি।
ভাংচুর ও উচ্ছেদকালে রেলওয়ের এষ্টেট কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এছাড়া প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তালবাহানা করায় অবশেষে দোকান মালিক ব্যবসায়ী নাদিম হোসেন বিজ্ঞ আমলী আদালত সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধায় ২৯ আগষ্ট/২১ ইং সি.আর.নং-৩১৭/২১ মামলা দায়ের করেন।
প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে এটা দ্বিতীয় মামলা।
প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও এ মামলায় রেলওয়ের ট্রলিম্যান সাখাওয়াত, চৌকিদার সাইফুল, অস্থায়ী খালাশী জুয়েল রানা ও আব্দুল আউয়ালকে আসামী করা হয়েছে।
এর আগে বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্ম সংস্কার কাজের শুরুতে স্টেশনের শোভাবর্ধনকারী শতবর্ষী কয়েকটি গাছ কর্তন করে টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ এনে প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে গত ১৬ জুন বিজ্ঞ আমলী আদালত সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা মামলা (সি.আর নং-২৩১/২১) দায়ের করেছেন বামনডাঙ্গার স্থায়ী বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন।
যা মামলাটি চলমান রয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটির নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলস্টেশনের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করতেই মামলা করা হয়েছে।
মামলাগুলোর সত্যতা নেই। রাস্তায় গাড়ী ঢোকার মত জায়গা নেই। যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। নিয়ম মোতাবেক রেল স্টেশন ও প্লাটফর্মের উন্নয়ন হবে।’
Leave a Reply