উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের মরদেহ জেলা পরিষদ প্রাংগনে আনা হয় সকাল ১১ টায়। জীবদ্দশায় সিলেট জেলা পরিষদের সভাপতি থাকায় বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জেলা পরিষদ ভবনে রাখা হয় তার মরদেহ। সকাল থেকে হওয়া গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে লুৎফর রহমানের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে আওয়ামীলীগ ও এর অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এছাড়াও সাধারন মানুষজন লুৎফুর রহমানের মরদেহবাহী কফিনে জানান ফুলেল শ্রদ্ধা। সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দেন শোকজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে। এ সময় শোক জানাতে আসা অনেক মানুষের পরনে ছিল শোকের কালো পাঞ্জাবী। লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয় লুৎফুর রহমানের মরদেহ। শেষবার তাকে একনজর দেখার সুযোগ পান সবাই।
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিভিন্ন অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিনম্র শ্রদ্ধায় তার কফিনে ফুল দিয়ে শোক জানান। উপস্থিত বক্তব্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আগত নেতাকর্মীরা বলেন এডভোকেট লুৎফুর রহমানের মত প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারানো সিলেটের জন্য এক অপূরনীয় ক্ষতি। তার মত সৎ নির্ভীক একজন নেতার অভাব সহসাই পুরণ হওয়ার নয়।
সিলেটের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সর্বজন সম্মানিত এই রাজনীতিবিদ। আজ বাদ জুময়া দুপুর আড়াইটায় আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জানাযা শেষে এডভোকেট লুৎফুর রহমানকে মানিকপীর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাসায় গিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সমবেদনাঃ বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, গণপরিষদের সাবেক সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষরকারী এডভোকেট লুৎফুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাসায় গেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে লুৎফুর রহমানের বড়বাজারস্থ বাসায় যান তিনি।
জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেনসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তারা।
এসময় লুৎফুর রহমানের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের সমবেদনা জানান নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তিনি নগরীর নয়াসড়কস্থ একটি প্রাইভেট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
Leave a Reply