সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ল্যাবে ৬ মাসের ইন্টার্নিতে ৪ বছর পার!

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ল্যাবে ৬ মাসের ইন্টার্নিতে ৪ বছর পার!


বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের ল্যাবে ৬ মাসের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে এসে ৪ বছর পার করেছেন ৭ ইন্টার্ন (শিক্ষানবীশ)। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সেখানে তারা অবৈধভাবে বছরের পর বছর রয়েছেন। তাদের দেখিয়ে (অবৈধভাবে বেতন দেয়ার অজুহাতে) প্যাথলজি বিভাগে লুটপাট করা হচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া নগদ টাকায় রোগীদের প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে ফ্রি-স্টাইলে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান রশিদ ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষার টাকায় শিক্ষানবিশদের বেতন দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই অনিয়ম বন্ধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ল্যাবে ৬ মাসের জন্য ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিকেলের (প্যাথলজিস্ট) বিষয়ে ইন্টার্ন করতে আসে ৭ জন। এরপর বছরের পর বছর গড়ালেও তাদের ইন্টার্নি আর শেষ হয়না। হাসপাতাল তত্ত্বাবাধয়কের অনুমতি ছাড়াই তারা প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অবৈধভাবে থাকার জন্য তারা জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহকে ম্যানেজ করেছেন। ওই ৭ জন অবৈধভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে ডা. হাসান আব্দুল্লাহ সুবিধা ভোগ করেন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে বেসরকারিতে কাজ করার সুযোগ পান। এই জন্য যে কোন মূল্যে তাদের ল্যাবে রেখে দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধান মতে, প্রতি মাসে ওই জনকে ৭৫ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়। আর এই টাকা লুট করা হয় সরকারের রাজস্ব থেকে। হাসপাতালের এক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বেতনের অজুহাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা গায়েব করা হচ্ছে। প্যাথলজি পরীক্ষা নিরীক্ষায় অনিয়ম আরও জোরদার করা হচ্ছে। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া নগদ টাকা গ্রহণ করে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। সূত্র জানায়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালে মে মাসে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হয়। কিন্তু ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়াই প্যাথলজি বিভাগে নগদ টাকা গ্রহণে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহর নির্দেশে এই অনিয়ম করা হচ্ছে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, প্যাথলজি বিভাগের আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা নয়। অথচ তা করা হচ্ছে না। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদের অর্থ ছাড়া আর কোন টাকা রাজস্ব খাতে জমা করা হয়না। প্যাথলজি বিভাগে প্রকাশ্যে নগদ টাকা গ্রহণ করে কয়েকভাগ করা হচ্ছে। তারা আরও জানান, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে সরকারিভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪ জন। তারা হলেন ১ জন প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট, ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ও ১ জন ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট। এছাড়া শিক্ষানবীশ ৭ জন ও স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন ৬ জন। এই জন মিলে ল্যাব সামাল দেয়া যায়। তারপরেও অবৈধভাবে বাড়তি লোক রাখা হয়েছে। কর্মচারীরা জানান, ৬ মাসের জন্য ইন্টার্নি করতে এসে ৪ বছর পার করা রহস্যজনক বটে। প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টার্নি করতে আসার পরও প্রতি মাসে কারো ১০ হাজার, কারো ১২ হাজার আবার কারো ১৫ হাজার টাকা দেয়ার কারণ কি। কর্মচারীদের অভিযোগ, ডা. হাসান আব্দুল্লাহ ওই ৭ জনের বিষয়ে হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ককে ভুল বুঝিয়ে অর্থ লুটপাট জোরদার করা হয়েছে। তাদের অভিমত, ব্যক্তি সুবিধায় সরকারি রাজস্ব লুট করে বেতন দেয়া অন্যায়। বেতন যদি দিতে হয় তাহলে সেটা হোক ডা. হাসান আব্দুল্লাহর নিজস্ব অর্থ থেকে। প্যাথলজি বিভাগে অবস্থান করে দেখা গেছে, ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া একাধিক রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা বাবদ নগদ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করার কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আখতারুজ্জামান জানান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর সময়ে ওই ৭ জন ল্যাবে ইন্টার্নী করতে আসে। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকায় তাদের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। যদিও সেটা পুরোপুরি অবৈধ। অনেক আগে থেকে চলে আসছে এই অনিয়ম। তিনি যোগদান করার পর থেকে এসব অনিয়ম বন্ধ করার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com