শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক,গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাতের আঁধারে রাস্তা পারাপারের সময় শিয়ালের সাথে মোটরসাইকেলে সড়ক দূর্ঘটনায় সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কবির আহত হয়েছেন । এবং দূর্ঘটনার শিকার শিয়ালটিও গুরুতর আহত হয়েছে।
তবে বেচারা শিয়াল পন্ডিতের সর্বশেষ অবস্থা জানতে অনেক খোঁজ করেও অবশেষে সন্ধান না মেলায় কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
২৭ আগষ্ট শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আমিরুল ইসলাম কবির মোটরসাইকেল চালিয়ে পেশাগত কাজ শেষে পলাশবাড়ী পৌরশহরের দিকে আসছিলেন।শহরের অদূরে পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কে সরকারি কবরস্থান সংলগ্ন একটি শিয়াল আকস্মিক সড়ক পারাপারের সময় এ সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে।
এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই শিয়ালটি চলন্ত মোটর সাইকেলটির সামনে এসে সজোরে ধাক্কা লাগে।এতে মূহুর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাংবাদিক আমিরুল ছিঁটকে সড়কে পড়ে যায়।পাকা সড়কে আঁচড়িয়ে পড়ায় তার হাঁটু ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান সড়কের ঘর্ষণে মারাত্মক রক্তাক্ত আহত হন।
এসময় দূর্ঘটনার শিকার গুরুতর আহত শিয়ালটি পালিয়ে গেলেও আদৌ মরে গেছে না বেঁচে আছে সে-সম্পর্কে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়রা আমিরুলকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।স্থানটিতে সার্বক্ষণিক কুকুর শিয়ালের অবাধ বিচরণ থাকায় এমন সড়ক দূর্ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমত্তিক হয়ে দাড়িয়েছে।
আল্লাহর অশেষ রহমতে সড়ক দূর্ঘটনা থেকে প্রাণে রক্ষা পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিশেষ শোকরিয়া আদায় করেছেন।সেইসাথে দ্রুত সুস্থতা ফিরে পেতে সহকর্মীসহ সর্বস্তরের শুভাকাঙ্ক্ষী মহলের আন্তরিক দোআ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য ;শেষ ঠিকানা বলে কথা!তবুও দেখার যেন কেউ নেই।কবরস্থানটির নিয়মিত কমিটি থাকলেও যথাযথ রক্ষণা-বেক্ষণ নেই বললেই চলে।নেই কোন তেমন প্রাচীর ঘেঁরা।থাকলেও তা এখানে আছে-ওখানে নেই।সংরক্ষিতের বদলে উন্মুক্ত থাকায় কবরস্থানটি ঘিঁড়ে কুকুর-শিয়ালদের অবাধ বিচরণ বসে থাকে।শুধু রাতের বেলায়ই নয়।দিনের আলোয় নিরিবিলি থাকার সুবাদে কুকুর-শিয়ালদের যেন রীতিমত হাট বসে।উপরন্তু একটি ক্লিনিক স্থাপন হওয়ায় এসব প্রাণীদের স্থানটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।এসব কুকুর-শিয়ালরা ভুঁড়ি ভোজনে তাদের শিকার হিসেবে মৃতদের টার্গেট করে থাকে।সার্বক্ষণিক দেখভাল করার মত কোন তদারকী না থাকায় চলমান পরিস্থিতির উদ্ভব।সম্প্রতি মৃতের হার বেশি হয়েছে।দিন পাল্টিয়েছে।পলাশবাড়ী এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আবাসিক এলাকায় ভরপুর।অধিক জনমানুষের বসবাস।এ হিসেবে গড়ে উঠেনি তেমন পারিবারিক কবরস্থান। প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এ কবরস্থানটির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।প্রায় প্রতিনিয়তই ২/১ জনকে কবরস্থ করা হয়ে থাকে।সময়ের ব্যবধানে গোটা কবরস্থান এলাকা জুড়ে একই কবরে ইতোমধ্যেই তিনটি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দায়ীত্বশীল সূত্র জানায়।ভূক্তভোগি মহল কবরস্থানটি রক্ষণা-বেক্ষণসহ যথাযথ সংরক্ষণে সচেতন কর্ত্যাব্যক্তিদের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply