নাহিদ মিয়া,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নে চলতি বছরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় বেশ খুশি কৃষকরা। এখন পাট কাটা,পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে বস্ত্য সময় পার করছে মাধবপুরে পাট চাষীরা।
সরজমিনে গিয়ে তথ্যমতে জানা যায় যে,মাধবপুর উপজেলায় বিঘাপ্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট হয়। এতে খরচ হয় ৬ থেকে ৭হাজার টাকা। অর্থ্যাৎ খরচের প্রায় তিনগুণ লাভ বেশি হয়।
পৌর শহর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের আলাকপুর গ্রামের পাট চাষী ফরুক মিয়া বলেন, গতবছর আমি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করছিলাম। বিঘাপ্রতি ১০ মণ পাট পেয়েছিলাম। আশা করছি, এবারও তেমনই পাবো। দাম ভালো থাকায় এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করছি। গতবারে ২ হাজার ৫ শত টাকা মণে পাট বিক্রি করেছি। এবার পাটের বাজার বেশি প্রতি মণ ৩ হাজার ১শত টাকা দাম রয়েছে। আশা করি, এবার আরো ভালো মূল্য পাবো।
উপজেলার ৪নং আদাঐর ইউনিয়নের আলোয়া পাড়া গ্রামের পাট চাষী মোঃ সাব বোদ্দিন বলেন, আমি ৩৭ শতক জমিতে পাট লাগিয়েছি। মোটামুটি ফসল ভালো হয়েছে। বীজ থেকে চারা বড় করার জন্য প্রচন্ড রোদ থাকায় ঘন ঘন সেচ দিতে হয়েছে, আগাছা দমন করার জন্য অনেক খরচ হয়েছে। কীটপতঙ্গের দিক থেকে,পাটে বিষাক্ত পোকা না থাকাই ঔষধ কম দিতে হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে ও কোনো দুর্যোগ না থাকায় পাট অনেক ভালো হয়েছে, বাজারে পাটের দামও অনেক বেশি থাকায় আমাদের তেমন লোকসান হয়নি। ৩৭ শতক জমিতে ৯ মণ পাট পেয়েছি। এতে করে আমরা পাট চাষীরা অনেক খুশি।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আলাকপুর গ্রামে উত্তর পাড়ার আরেক পাট চাষী চমক মিয়া বলেন, আমি ৬০ শতক জমিতে পাট লাগিয়েছি। মোটামুটি ফসল ভালো হয়েছে, পাটে তেমন কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয়নি, আবহাওয়া অনুকূল ও প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না থাকায় ফলন ভালো নষ্ট হয়নি, ৬০ শতক জমিতে ১৬ মণ পাট পেয়েছি। এবারে পাটের দাম অনেকটা ভালো। এতে করে আমরা পাট চাষীরা বেশ খুশি।
কথা হয় মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, উপজেলায় গত বছর ৩০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়। এবার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়েছে। ইতি মধ্যে মাঠের সব পাট কাটা প্রায় শেষের পথে। এখন জাগ আর আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। আশা করছি, এবারও লাভের মুখ দেখবে কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল ও প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার অফিসার ও মাঠকর্মীরা পাট চাষের জন্য সব সময় কৃষকদের সেবা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি, আগামীতেও কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ অনেক বাড়বে।
Leave a Reply