অন্তর আহম্মেদ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় প্রতিনিই ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। চলাচলকারী যানবাহন রাস্তায় ডেবে যাচ্ছে। এতে করে যেমন যানবাহনের যত্রাংশ বিকল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যানজটের কারনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। এমন অবস্থান যানবাহন চালক, চলাচলকারী ও স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নওগাঁ – জয়পুরহাট আঞ্চলিক সড়কের সোনালী ফিলিং স্টেশন হতে ঠুকুনি পাড়া মোড় পর্যন্ত বিশেষ করে নজিপুর মাইক্রোস্ট্যান্ড হতে পুঁইয়া সোনালী ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিমিঃ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী ছোট রড় পরিবহণ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিসহ ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ওই সব গর্তের উপর দিয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক, মালবাহী গাড়ি, কিংবা যাত্রীবাহী ছোট ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।সরেজমিন দেখা যায়, নজিপুর- নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের ওয়াল্টন শেষ রুমের পাশে মামুন পেট্রল পাম্প এলাকায় একটি বাস ও একটি ট্রাক সাইড দিতে গিয়ে গর্তে চাকা দেবে গিয়ে আটকে পরে আছে, প্রায় প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তে বেহাল দশায় যান চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। ওই এলাকার সামনে সড়কের গর্তে পানি জমে মনে হয় যেন পুকুরে পরিণত হয়েছে। সড়কটি কোথাও কোথাও এক- দুই ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পুরু সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে গেছে। এমতাবস্তায় ওই জলাবদ্ধতার পানি ও কাদামাখা সড়কটি দিয়েই হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন।স্থানীয়রা জানান, সড়ক বিভাগ থেকে মাঝে মাঝে কিছু ভাংড়ী নিন্ম মানের ইট দিয়েমেরামত করলেও দু একদিন পরে আবার আগের অবস্থা হয়ে যায় এ কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই সংস্কার করার দাবি জানান পথচারী ও এলাকাবাসী।স্থানীয় অটোরিকশা চালক হাসান আলী জানান, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার যান চলাচল করে, দ্রুত সংস্কার করার দাবি করে তিনি বলেন, রাস্তার গর্তের কারনে আটোর বিভিন্ন পার্টস যন্ত্রণাংশ দ্রæত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে বিয়ারিং ৬ মাস যেত সেটা এক দেড় মাসে বিকল হচ্ছে। এতে করে আমরা প্রতিনিয়ই ক্ষতির সম্মখিন হচ্ছি।
নওগাঁ জেলা ট্রাক ট্র্যাংক লড়ি কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (২৬৫৮) এর সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারনে রাস্তার উপরে মালবাহী ট্রাক উল্টে গিয়ে মালামাল খাদ্য সামগ্রী রাস্তায় পরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে এতে মালিক কে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তাই তিনি দ্রæত টেকসই মজবুত মেরামতের দাবি করছি।ট্রাক চালক আঃ জলিল জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে হয়। বর্তমানে রাস্তার বেহাল দশা। মাঝে মাঝে রাস্তায় ট্রাক ডেবে যায়। অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কয়েক মাস ধরে এমন দশা। যেন কৃর্তপক্ষের কোন খেয়ালই নেই যে রাস্তা মেরামত করা দরকার। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী রতন হোসেন জানান, প্রায় প্রতিদিনই এই সরকে ছোট বড় সব ধরনের মালবাহী যানবাহন উল্টে পরে থাকছে, অটেচার্জার সাইকেল মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে আহত হচ্ছে অনেকেই। দিনের বেলায় দূর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয়রা আমরা উদ্ধারে এগিয়ে আসি কিন্তু রাতে ঘটনা ঘটলে কেউ থাকেনা। তখন বেশী সমস্যায় পরে যাদের এই রাস্তা সম্পর্কে কোন ধারনা নেই কোথায় কি পরিমাণ গর্ত আছে। এ অবস্থার দ্রুত সংস্কার করা নাহলে বড় দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে পত্নীতলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, রাস্তার দুই পাশে মার্কেট ও বাসা গুলো উচু হওয়ায় রাস্তা নিচু হয়েছে। যার কারনে জলাবদ্ধতার কারনে এরকম হচ্ছে, ট্রাকের অফিস থাকায় বড় বড় মালবাহী ট্রাকগুলো এখানে এসে ব্রেক মারার কারনে রাস্তার ইট উঠে যাচ্ছে, সড়ক ও জনপথ থেকে প্রতিনিয়তই মেরামত করা হচ্ছ কিন্তু টিকছে না। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন করে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু ট্রাক থামার কারনে ড্রেনের মুখ গুলো বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাস দেড়েকের মধ্যে একটি প্রজেক্ট আসার কথা, সেটা বাস্তবায়ন হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ রাস্তা প্রশস্ত করা হবে উচু হবে আশা করছি তখন আর ভোগান্তি থাকবে না।
Leave a Reply