মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝুঁকিতে পারাপার করছে পথচারীরা। এ মহাসড়কে কুমিল্লার অংশে দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার রাস্তায় পারাপারে বেশ কয়েকটি ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণ করা হলেও পথচারীরা তা ব্যবহার না করে এলোপাথাড়ি রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে যানজট।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে ফোরলেন দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন যাতে নির্দিষ্ট গতিতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়ে পথচারীরা রাস্তা পারাপার হতে পারেন তার জন্য মহাসড়কের উপর ১৬টি ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা যায়, গুরুত্ব বিবেচনা করে গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, কোটবাড়ি সড়কের মাথা, পদুয়ারবাজার, সুয়াগঞ্জ, মিয়ারবাজার, আমানগন্ডা, চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকা, আমজাদের বাজার, চিওড়া রাস্তার মাথাসহ কয়েকটি স্থানে ওভারব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু যাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ওভারব্রীজগুলো সেই পথচারীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন। এতে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। আবার অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও।
পদুয়ার বাজার এলাকার পথচারী আলমঙ্গীর কবির বলেন, ফুট ওভারব্রীজ হওয়ায় সড়ক দূঘটনা কমে গেছে কিন্তুফুট ওভারব্রীজে হকারদের উচ্ছেন না করলে চলাচলা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদেরও সচেতন হতে হবে।
আরেক পথচারী মো: নেছার উদ্দিন বলেন, ফুট ওভারব্রীজের সিড়িতে উঠানামা করতে একটু সময় লাগে তাই ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছি।
পথচারি সাইফুল ইসলাম সজিব জানান, মানুষ সটকাট জিনিসটাকে সহজে গ্রহন করে। এটা আমাদের অভ্যাস। সে জন্য আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে।
জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ এমদাদুল হক বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার কেন্দ্রিক মানুষ যখন সড়ক পারাপারের জন্য জড়ো হয় আমরা তখন তাদের বাধা দিয়ে ফুটওভারব্রীজ ব্যবহার করতে বলি। ওভারব্রীজগুলো পারাপারে পুলিশের কড়া নির্দেশ থাকলেও পথচারীরা তা মানতে চায় না। সহজে পদ্ধতিতে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করে না। ফলে হকাররা ওইখানে বসতে সুযোগ পায়। আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযানে তাদের উচ্ছেদ করি, পরবর্ত্তীতে আবার এসে বসে। সবাই ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করলে হকাররা বসার সুযোগ পাবেনা। এবিষয়ে জনগনকেও ভূমিকা রাখতে হবে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজা-ই-রাব্বি বলেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মানুষ সময় বাচানোর জন্য ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়ে পথচারীরা রাস্তা পারাপার হতে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্নে করতে ১৬টি ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারিদের এই সকল ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহারের জন্য আরোও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
Leave a Reply