সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনা রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনা রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ


বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:


যশোরে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে প্রতিদিন রোগী প্রতি ৩শ’ টাকা খাবারের বরাদ্দ থাকলেও রোগীরা ১শ’ টাকার খাবার পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। তাও আবার রান্নার মান ভালো না। অনেক সময় বিড়ালে খাওয়া খাবারও রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় অধিকাংশ রোগী বাড়ির খাবারের উপর নির্ভর করলেও বিপাকে রয়েছেন ভারত ফেরত রোগীরা। কেননা তাদের বাইরে থেকে খাবার দেয়ার মতো কেউ নেই। হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলেছেন, খাবারে অনিয়মের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত হাসপাতালের রেডজোনে ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। এরমধ্যে ভারত ফেরত ১২ নারী- পুরুষ রয়েছেন। তাদের উন্নত মানের কোন খাবার দেয়া হচ্ছে না। ৪২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ভারত ফেরত আল মামুন জানান, ১৫ আগস্ট তিনি এই হাসপাতালে এসেছেন। ৬ দিনের মধ্যে শুক্রবার দুপুর ও রাতের খাবারে ছিলো ছোট ছোট ২/৩ টুকরা পোল্ট্রির মাংশ। রান্নার মান এতটা নি¤œমানের মুখে দেয়া যায়নি। ক্ষুধার যন্ত্রনায় কিছু ভাত খেয়ে বাকিটা ফেলে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বাকি ৬ দিনের দুপুর ও রাতের খাবারে ছিলো ২ টুকরা মাছ, ১ টি ডিম ও সামান্য পরিমাণে ভাত। অন টাইম বক্সে ভাত তরকারি একসাথে দেয়া হয়। যা দেখলে খাবার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়। সকালের নাস্তার বিষয়ে আল মামুন জানান, একটা কলা, পাউরুটি ও ডিম। বর্তমান বাজার দরে ৩ বেলার খাবারের দাম ১শ’ টাকার বেশি হবে না। ৪৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আল আমিন জানান, তিন বেলা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও ৬ দিনে কোন ফলমূল দেয়া হয়নি। এমনকি একটি মাল্টাও ভাগ্যে জোটেনি।
তিনি আরও জানান, ফলমূল ছাড়াও সরকারি বরাদ্দের টাকায় নিয়মিত দুধ হরলিক্স দেয়ার কথা কিন্তু কেউ পাচ্ছেন না। সাধারণ খাবার দেয়া হচ্ছে প্রতিদিন।
৪৪ নম্বর বেড়ে চিকিৎসাধীন আকাশ জানান, নিজে বা স্বজনদের কেউ অসুস্থ হওয়ার সুবাদে বাগেরহাটসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে গিয়েছি, খাবার খেয়েছি। কিন্তু এই হাসপাতালের মত নিম্মমানের খাবার কোথাও চোখে পড়েনি। রান্নার মান খুবই খারাপ। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের খাবার দেখলে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। তরকারি দেখলে খেতে ইচ্ছা করেনা। ভাত ঠিক মতো সিদ্ধ হয়না। রোগীর পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্বজন আসমা বেগম জানান, তার রোগীকে বাইরের খাবার খাওয়ানো হয়। হাসপাতালের খাবার তারা নেননা। করোনা রোগীদের জন্য উন্নত মানের খাবার কেনো নেননা প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয়া হয় তা মুখে দেয়ার মতো না।
আরেক রোগীর স্বজন শিরিনা বেগম জানান, আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে হাসপাতালের খাবারের মান ভালো না হওয়ার পরেও বাধ্য হয়ে অনেকের খেতে হয়। যে পরিমাণে ভাত দেয়া হয় তাতে রোগীর পেট ভরেনা।
সরেজমিনে অবস্থান করে দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদাভাবে উন্নত মানের খাবার রান্নার কথা খাকলেও মানা হচ্ছে না। অন্য রোগীদের খাবারের সাথে এক সাথেই রান্না করা হচ্ছে। পার্থক্য হলো সাধারণ রোগীদের জন্য ১ টুকরা মাছ ও করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ ২ টুকরা মাছ। রেডজোনে গিয়ে দেখা গেছে, একজন রোগীকে সকালের নাশতায় পাঁচ টাকা দামের এক পিস পাউরুটি, ৮ টাকা দামের ১টি ডিম ও ৩/৪ টাকা দামের একটি কলা দেওয়া হয়। দুপুরে সর্বোচ্চ এক প্লেট ভাতের সঙ্গে সবজি ছাড়াই দুই টুকরা মাছ। রাতেও দেয়া হয় একই খাবার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সেবিকা জানান, করোনা রোগীদের দেয়া খাবারের মান ভালো না। পুষ্টিসমৃদ্ধ কোন খাবার দেয়া হয়না। সকালের নাস্তায় অন্য রোগীদের যা দেয়া হয় করোনা রোগীদেরও তাই। দুপুরে ও রাতের খাবারের মান একদম নিম্মমানের। স্থানীয় অনেক রোগী বাইরের খাবার খেলেও ভারত ফেরতদের খাবারের কষ্ট করতে হয়। লোক না থাকায় বাইরের খাবার খাওয়ার উপায় নেই তাদের।
এদিকে, শনিবার দুপুরে রেডজোনে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের জন্য রাখা খাবার খাচ্ছে বিড়ালে। পরে সেই খাবার রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানমতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের অনেক সময় তরল খাবারের প্রয়োজন হলেও তা দেয়া হয়না। অথচ তাদের জন্য খাবারের টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ রয়েছে। আইসিইউ ওয়ার্ডের সামনে অপেক্ষামান দুই রোগীর স্বজন তরল খাবার না দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেডজোনে চিকিৎসাধীন এক রোগী জানান, প্রায় দিন পাউরুটি শক্ত হয়ে যায়। কলাও নিম্মমানের। তরকারি রান্না হয়না। অধিকাংশ রোগী খাবার গ্রহণ করেন না। যারা নেন তারাও বেশির ভাগ ফেলে দেয়। করোনা রোগীদের জন্য সরকারের দেয়া খাবারের টাকা রীতিমতো লুটপাট করা হচ্ছে। ঠিকাদার ও দায়িত্বরতরা ওই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন বলে দাবি করেন ওই রোগী।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, ৩ বেলা খাবার বাবদ প্রতি করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ ৩শ’ টাকা। তাদের উন্নত মানের খাবার দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। খাবার নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি জানলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, তার জানা মতে করোনা রোগীদের জন্য আলাদাভাবে খাবার রান্না করা হয়। এছাড়া নাস্তায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার দেয়া হয়। রান্নার মান ও খাবারে অনিয়মের ব্যাপারে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com