এম. শাহীন আল আমীন,জামালপুর ॥
দেখে বুঝার উপায় নেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে কয়েকটি গ্রামের মানুষ। দেখে মনে হবে ধান চাষাবাদের জন্য কোন কৃষক তার জমি হালচাষ করে রেখেছেন। আসলে এটা হালচাষের কোন জমি না এটা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আউলপাড়া মোড় থেকে জাগিরপাড়া হয়ে শেখেরচর পাকা রাস্তা পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ন একটি রাস্তা। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা নির্মানের প্রুতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দিলেও দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও কাচাঁ সড়ক পাকা হয়নি। খানাখন্দ আর কাদাযুক্ত সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। তাই খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে যেতে হয় উপজেলা শহরে। দূর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো মানুষ। দ্রুত পাকা করনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়,জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আউলপাড়া মোড় থেকে জাগিরপাড়া হয়ে শেখেরচর পাকা রাস্তা পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার কাচাঁ রাস্তা। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও রাস্তাটি সংস্কার বা পাকা করনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এই সড়ক দিয়ে শেখেরচর, জাগিরপাড়া, প্রতিবেশী ইসলামপুর উপজেলার কাছিমার,গোয়ালেরচর, ফারাজীপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। কাঁচা সড়কটিতে ছোটবড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জরাজীর্ন এই সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে পথচারীদের। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাচঁ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এই সড়কেই জাগিরপাড়া হাইস্কুল,প্রাইমারী স্কুল অবস্থিত। দুই কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে হাইস্কুলের চারতলা ভবন। এলাকাবাসীসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরাও দারুন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে রাস্তা একাকার হয়ে যায়। পানিবদ্ধতায় কোথাও কোথাও রাস্তা তলিয়ে কাদার ভাগাড়ে পরিনত হয়। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়ে ওই পাচঁ গ্রামের মানুষজন খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজ পড়য়া ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্যসহ মালপত্র পরিবহনে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে কোন অ্যাম্বুলেন্স এমনকি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ওই এলাকায় যেতে পারে না। দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসী সড়কটি পাকা করনের দাবি করে আসছে।
শেখের চর গ্রামের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন,মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের জন্য প্রতিদিন নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটি পাকা হলে এই এলাকার মানুষের আর নদী পারাপার হতে হবে না। এই সড়কটি পাকা হলে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাথে প্রতিবেশী ইসলামপুর উপজেলা হয়ে জেলা সদরে যাওয়া সহজ হবে।
ফারাজীপাড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের শিক্ষক আবদুল আজিজ জানান,কাদাযুক্ত এই সড়কের জন্যই জরুরী কোন প্রয়োজন ছাড়া উপজেলা সদরে যেতে ইচ্ছে হয়না। মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের জন্য দীর্ঘদিন যাবত এই এলাকার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। জনগুরুত্বপুর্ন সড়কটি পাকা করন এ্খন সময়ের দাবি। এই সড়কটি পাকা হলে বকশীগঞ্জ উপজেলা ও ইসলামপুর উপজেলার মধ্যে সেতু বন্ধন হবে।
জাগিরপাড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন,খানাখন্দ আর কাদায় রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। তাই নদী পার হয়েই স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এই সড়কটির জন্য স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। রাস্তাটি পাকা হলে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাগব হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জেহাদ বলেন,প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশের কোন রাস্তাঘাট ভাঙ্গা বা কাচাঁ থাকবে না। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে একাধিকবার রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে যাদের জমি আছে তাদের অসহযোগীতার কারনে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে ওই রাস্তার বিষয়ে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন,কাচাঁ রাস্তার কিসের নিউজ,কাচাঁ রাস্তার কোন নিউজ নাই। আমিতো রাস্তাই চিনিনা কি বলবো।
Leave a Reply