আল নোমান শান্ত,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠেছে অনুমোদনহীন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। কতিপয় একটি মহল প্রভাব কাটিয়ে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন অবাধে এ ব্যববা। ওইসব অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরধারী কামনা করছেন স্থানীয় অসংখ্য ভুক্তভোগী।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গুলো মল-মুত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে এই ব্যবসা চলছে দেদারছে। সরকারী কোন তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ক্লিনিক মালিক, ভুয়া ডাক্তার ও দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল রোগী ও তার পরিবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। পৌর শহরে সব মিলিয়ে ৩০-৩২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থাকলেও প্রশ্ন থাকছে অনুমোতি রয়েছে কোন গুলোর। কয়েকটির লাইসেন্স থাকলেও নাই কোন নিজস্ব ডাক্তার ও বিদ্যুৎ এর সু-ব্যবস্থা। বাহিরের ডাক্তার দিয়ে অপারেশন চলছে প্রতিনিয়ত। কয়েকটি ক্লিনিকে এনেন্থেসিয়ার ডাক্তারই খোদ অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অনেক ক্লিনিকের পৌরসভার ট্রেডলাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এদের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের দেখভাল সহ ব্যবস্থা নিতে গেলেই রাজনৈতিক, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ সহ বিভিন্ন তদবিরের কারণে অসহায় হয়ে পড়েন ঔষধ প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকে দায়িত্বরত প্যাথলজিস্ট বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন ডাক্তার নাই, আমরা রুগী গুনে ময়মনসিংহ অথবা ঢাকা থেকে ডাক্তার আসতে বলি অপারেশন করানোর জন্য। প্যাথলজি খোলা থাকে, রোগী আসলেই টেস্ট করাই। লাইসেন্স’র বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো লাইসেন্স পাইনি, দু‘এক মাসের মধ্যেই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক চালানোর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। ওই ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারই নয় শহরের অলি-গলিতে অসংখ্য গড়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগরনোস্টিক সেন্টার। কেউ ডাক্তার না, তারপরেও ডাক্তারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ রোগীদের জীবন-মৃত্যু নিয়ে সেবার নামে চালাচ্ছেন এই ব্যবসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিক্যাল অফিসার এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিন সকালে রোস্টার ডিউটি শেষে যেসকল রোগীদের এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি ছাড়া যেসকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বলা হয়। তখন বহিরাগত এক শ্রেণির দালাল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ডুকে ডাক্তারের মিথ্যে নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ডায়ানগোষ্টিক সেন্টারে নিয়ে চড়া দামে পরীক্ষা করিয়ে থাকে। এতে করে দালাল শ্রেণি হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ওইসব দালাল দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান। এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেণ তিনি।ক্লিনিক গুলোর অবস্থা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. মামুনুর রহমান যুগান্তর কে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি তালিকা তৈরী করেছি। এখানে নামে বেনামে অনেক ক্লিনিক রয়েছে, অনেক গুলো লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছে, আবার অনেক গুলো আবেদন করেনি। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে দিক নির্দেশনা রয়েছে, তা অনেক গুলোরই নেই। অচিরেই এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
Leave a Reply