বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী রিশিতা খাতুন খুশিকে (১৩) আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার (১৮ আগস্ট) ওই ছাত্রীর পিতা ইকরাম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিরা হলেন ৩ জন হলেন চান্দুটিয়া গ্রামের রকি (২৩) তার পিতা রফিকুল ইসলাম (৫৫) ও বড় ভাই সুজন (২৫)। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ইকরামের মেয়ে খুশি চান্দুটিয়া এমআই দাখিল মাদ্রাসা ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। রকি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। প্রস্তাবে রাজি না হলে খুন জখমের হুমকি দেয়া হয় খুশিকে। বিষয়টি রকির পিতা ও বড়ভাইকে জানালেও শাসন না করে রকিকে উৎসাহ দেয়। ইকরাম অভিযোগে আরো বলেছেন, দীর্ঘদিন উত্ত্যক্ত করার পর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরী খুশিকে প্রেমের জালে ফাসায় রকি। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরে অস্বীকার করায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কিশোরী খুশি। বিভিন্ন সময় রকি তাকে আত্মহত্যা করতেও বলে। এক পর্যায়ে গত ২ মে দিবাগত রাতে নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে খুশি। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। পরে কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। যে কারণে আদালতে মামলা করেছেন ইকরাম। খুশি আত্মহত্যার ঘটনাটি নিয়ে আসামি পক্ষ প্রথম থেকেই পক্ষকে হুমকি দিয়ে আসছিলো বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ইকরাম হোসেন জানিয়েছেন, চুড়ামনকাটির সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সুকুমার খুশির মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর আগে খুশি নিজের খাতায় রকি ও তার ভালোবাসা নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা লিখে যায়। সেগুলো আলামত হিসেবে জব্দ করেন এসআই সুকুমার। এক প্রশ্নে ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে রকির বিষয়টি আমরা জানতাম না। যে কারণে আমার বড় ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে। তার পরে আত্মহত্যার প্ররোচনায় বিষয়টি জানাজানি হয়। খুশির হাতে রকির নামও লেখা ছিলো। যা পুলিশকে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু অজ্ঞানে কারণে পুলিশ পরে নিরব হয়ে যায়।
Leave a Reply