মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
ডেসটিনি গ্রুপের নিজস্ব সম্পত্তি রাজধানীর ফার্মগেইটে নেওয়া আলপনা ছায়াচিত্র(প্রাইভেট লিমিটেড) আনন্দ ছন্দ সিনেমা হলের নামে ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে চাকুরী দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডেসটিনি কোম্পানির সাবেক সেক্রেটারি মিজানুর রহমান এফ সি এ এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা চীফ জুডিশিয়াল ১নং আমলি কোর্টে কুমিল্লা নগরীর লষ্কর পুকুর পাড় ২য় মুরাদপুরের মৃত মন্তাজ উদ্দিনের ছেলে হারুন মিয়া(৩১) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী হারুন মিয়া দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেন, আমি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের একজন সাধারণ ক্রেতা ও পরিবেশক ছিলাম আর সেই সূত্রেই আমার সাথে মিজানুর রহমানের পরিচয়। নিজের জীবন ও পরিবারের ভরনপোষণ চালাতে যেই মাত্র আমি চাকুরী খুজতে ছিলাম ঠিক সেই মূহুর্তে মিজান নিজেকে আলপনা ছায়াচিত্র(প্রা:) মালিক দাবি করে আমাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সে বলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সে নির্বাহী পরিচালক, একমাত্র মালিক ও বোর্ড সভার মাধ্যমে এককভাবে পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং ট্রেড লাইসেন্সের অধিকারী (যাহা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন,ঢাকা,ট্রেড লাইসেন্স নং ১১৯১৯১ তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৯ইং ইস্যু ) দেখালে আমি তা সরল মনে বিশ্বাস করি এবং তার অধিনে চাকুরী করতে ইচ্ছা পোষণ করলে সে আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা জামানত চায়। চাকুরীর বিষয়টি আমি আমার ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কোম্পানির দুইজন ক্রেতা ও পরিবেশকের সাথে আলাপ করলে উনারাও চাকুরী করতে রাজি হয় এবং আমরা বিভিন্নভাবে সুদের উপর এবং হাওলাদ করে টাকা যোগাড় করলে মিজানুর রহমান এফ সি এ আমার বাসায় আসে এবং কয়েকজন স্বাক্ষী ও আমার উপস্থিতিতে মহিউদ্দিন ভূইয়াকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মাসিক ২৫ হাজার টাকা বেতন দিবে বলে তার কাছ থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা গত ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখে বুঝিয়া নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই মাসের ১২ তারিখে আমার মামলার ২য় স্বাক্ষী মো: পেয়ার আহম্মদকে অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তার থেকে চাকুরী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ মামলার ১নং স্বাক্ষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আমার উপস্থিতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। পরিশেষে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখে পূর্বের ন্যায় আমার বাড়ীতে আসে এবং আমার পরিবার পরিজন ও ১নং ও ২নং স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে আমার নিকট থেকেও চাকুরী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। আমাদেরকে চাকুরী দেওয়ার নিমিত্তে জামানত হিসেবে নেওয়া টাকার গ্যারান্টি চাইলে মিজান বলে আমি ২ মাসের মধ্যে চাকুরী না দিতে পারলে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো কিন্তু তার দেওয়া সময় অতিবাহিত হলে তার সাথে যোগাযোগ করলে সে শুধু কাল ক্ষেপন করতে থাকে আর ছল-চাতুরী করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জন্মালে উক্ত সিনেমা হলের বর্তমান ম্যানেজার মো: শামসুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় উক্ত সিনেমা হলের মালিক ডেসটিনি গ্রুপ পি এস ২ কোর্টের আদেশে মিজানুর রহমান উক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করিতেছে। প্রতারণামূলকভাবে জালিয়াতি করে ট্রেড লাইসেন্স করেছে। মিজানুর রহমান অত্র সিনেমা হলের কেহ না। তাহার সাথে মালিকানার কোন সম্পর্ক নাই। এমন কথা শুনে আমরা কয়েকজন স্বাক্ষীগনসহ গত ৩১ জলাই ২০২১ ইং তারিখে মিজানুর রহমানের বর্তমান ঠিকানা পুরানা পল্টন লেন, ফ্ল্যাট নং ২ এল,বাড়ী নং ৫২ বাসায় গেলে নগদ টাকা ও চাকুরী দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে বিজ্ঞ আদালতের স্বরনাপন্ন হই এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ১নং আমলি আদালতের বিচারক ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদ উর রহমান বিষয়টি আমলে নেন।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, মিজানুর রহমান এফ সি এ লোকটি চাকুরী দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা মানুষ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে । এ
অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং আগামী ৮ নভেম্বর ২০২১ইং তারিখে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমান এফ সি এ সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply