শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক,গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে বড় মসজিদ মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মাসে ।
২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর চারলেন কাজের উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা -২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি ।
কিন্তু উদ্বোধনের আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও শেষ হয়নি কাজ।
অন্যদিকে বরাদ্দ টাকা পরিশোধ করা হলেও সড়ক থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরায়নি বিদ্যুৎ বিভাগ।
গাইবান্ধা শহর চারলেন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সড়কের মাঝখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
কিন্তু সময়মতো খুঁটি অপসারণ না করায় ব্যাহত হচ্ছে সড়ক নির্মাণ কাজ।
বন্ধ রয়েছে চারলেন সড়কের কার্পেটিং।
খুঁটির কারণে ড্রেনসহ অন্যান্য কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শহরের যানজট নিরসন ও বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ ফেরি সার্ভিস পুনঃচালুর লক্ষ্যে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী থেকে গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়া পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয়া হয়।
২১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের শহরের ভেতরে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ যানজট সমস্যা নিরসনে ফোরলেনে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
এতে সড়কটি ৬ ফুট ডিভাইডারসহ উভয়পাশে ১৮ ফুট সম্প্রসারণ করে ৪২ ফুট চওড়ায় উন্নীতকরণ এবং রাস্তার উভয় পাশে ফুটপাত কাম ড্রেন, ডিভাইডারের মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনে বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়।
এতে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা।
এরমধ্যে ১১১ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে জমি অধিগ্রহণে, বাকি ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয় সড়ক নির্মাণে।
ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এই কাজের দায়িত্ব পায়।
সওজ সুত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে চারলেন সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।
কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি।
ফলে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় বাড়ানো হয়েছে।
সুত্রটি আরও জানায়, ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার চারলেন সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাসটার্মিনাল থেকে ১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ ছিল।
জটিলতা নিরসন হওয়ায় এই অংশের কাজ গত তিন মাস ধরে শুরু হয়েছে।
এ অংশে সড়কের দুইপাশে অধিগ্রহন করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরানো হয়নি বৈদ্যুতিক খুঁটি।
যদিও খুঁটি সরানোর জন্য নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পরপরই বিদ্যুৎ বিভাগকে ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ১ নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের দুইপাশের বৈদ্যুতিক খুটি সরানো হয়েছে।
এই অংশে কার্পেটিংয়ের কাজও অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু শহরের ১ নম্বর রেলগেট থেকে পশ্চিমে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত খুঁটি সরানো হয়নি।
এর মধ্যেও এই অংশে ড্রেন ও ডিভাইডার স্থাপনের কাজ চলছে।
বিশেষ করে এই অংশের হকার্স মার্কেট, ডাকবাংলো মোড়, ফকিরপাড়া, পলাশপাড়া, বাস টার্মিনাল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে খুঁটি থাকায় দুঘর্টনার ঝুঁকি বেড়েছে।
বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ।
চারলেন কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, সড়কের পশ্চিম অংশের বৈদ্যুতিক খুঁটি এখনো সরানো হয়নি।
খুঁটি না সরানোর কারনে কার্পেটিংয়ের কাজ থেমে আছে।
মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়েছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আখতার বলেন, সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুটি না সরানোর কারনে কাজে বিলম্ব হচ্ছে।
তবে দ্রুত খুঁটি সরাতে বিদ্যুৎ বিভাগকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। খুঁটি সরালে অচিরেই কাজ সম্পন্ন হবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-২ (নেসকো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, সড়কে ড্রেনের নির্মাণকাজ চলছে। এ কারনে খুঁটি সরাতে বিলম্ব হয়েছে। শীঘ্রই খুঁটি সরানো হবে।
Leave a Reply