“বাদল হোসাইন সখীপুর”
সখীপুরে নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ বাঁশ বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে বাঁশ ভেঙে গিয়ে বিদ্যুতের তার মাটি ছুঁই-ছুঁই করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তেমন নজরদারি নেই বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির বদলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশ ও গাছ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগও করেছেন। খুঁটির জন্য বারবার অবগত করা হলেও আমলে নেয়নি পিডিবি কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুতের তার বাঁশ ও মরা গাছের খুঁটির মাধ্যমে টানা হয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে। হাতের নাগালেই রয়েছে এসব বিদ্যুতের তার। সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব সংযোগে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে।
১০ আগস্ট বাড়ির পাশে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে কালিদাস নমপাড়া গ্রামের স্মৃতি রানী নামের এক শিশু অকালে প্রাণ হারায়। চলতি বছরে কচুয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত হয়। একইভাবে বহেড়াতৈল গ্রামে নিহত হন ময়মনসিংহ জেলার এক শ্রমিক। প্রায়ই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় এভাবে প্রাণহানি ঘটছে।
কচুয়া গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে মরা গজারিগাছ ও বাঁশ। এ ছাড়া বিদ্যুতের মূল খুঁটি থেকে বাঁশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়েছে ওই এলাকার একাধিক পরিবার। খুঁটি থেকে বাঁশ দিয়ে টানা হয়েছে প্রায় দেড় কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন।
উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ট্রান্সফরমার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে ১০ বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই ১০ বাড়ির জন্যই আলাদা আলাদা তার টানা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা কাঠ ও বাঁশের খুঁটি। এতে খুঁটি ও তারের জটলা বেঁধে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে বাঁশ দিয়ে তার টানা হয়েছে। প্রতিকার চাওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছেও। আশ্বাস দিলেও এর সমাধান হয়নি। এভাবে সংযোগ নেওয়ায় এলাকার শিশুসহ লোকজন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পিডিবি সখীপুরের (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের খুঁটির বিষয়ে অবগত হয়েছি। পর্যায়ক্রমে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, বাঁশ অথবা গাছ দিয়ে তার টানা ঝুঁকিপূর্ণ। এমন হয়ে থাকলে বিষয়টি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
Leave a Reply