মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একটি কক্ষে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার দুপুরে কক্ষটিতে রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডার লিকেজ থেকে এ অগ্নিকান্ড হয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় করোনা রোগীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে বের হয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের স্টাফরা জানায়, শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে করোনা রোগিরদের জন্য বড় কন্টেইনারে করে অক্সিজেন আসে। শনিবার দুপুরে এগুলো ছোট সিলিন্ডারে রিফিল করা হচ্ছিলো। এসময় একটি সিলিন্ডারের মুখে লিকেজ জনিত কারনে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা তাৎক্ষনিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। অগ্নিকান্ডের কক্ষের গ্লাস ভেঙ্গে বাকি সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে আনেন তারা। তৎক্ষনিক তাদের পদক্ষেপের কারনে বড় কোন ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের কুমিল্লার একটি ইউনিট আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষামান ছিলো। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকতার মা করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ করোনা ইউনিটে ভর্তি আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ঘটনার সময় আমাদের কিছু লোক সেখানে থাকার কারনে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে।
কুমিল্লার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক মোঃ আকতারুজ্জামান লিটন জানান, হাই ফ্ল্যাক্সিবল পাইপ অতিরিক্ত গরম হয়ে ফেটে গিয়ে আগুন লাগে। এসময় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কুমিল্লার চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, দুপুর দেড়টায় মানুষের ছুটাছুটি থেকে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি অক্সিজেন রিফিল সেন্টারে ধোয়া ও আগুন। অগ্নি নির্বাপক স্প্রে দিয়ে স্টাফদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। কক্ষটিতে একশত সিলিন্ডার ছিলো। একটু দেরী হলে হয়তো এ সিলিন্ডারগুলো এক সাথে বিষ্ফোরিত হয়ে অনেক বড় ক্ষতি হতে পারতো। আমরা এ ইউনিটের প্রায় দুশত রোগিকে রক্ষা করতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে।
Leave a Reply