সোহেল রানা,সাভার(ঢাকা):
সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বেদী ভাঙার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শহীদ বেদী রক্ষা কমিটি।
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে “শহীদ বেদী স্বস্থানেই থাকবে” এই শ্লোগানে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বেদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফারহানা হক শামা বলেন, “অপসারণের নামে শহীদ বেদী ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যে “প্রতিবাদ প্রতিরোধ শহীদ বেদী রক্ষা কমিটি” গঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর। বিভিন্ন সময় এই শহীদ বেদী অপসারনের নামে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বরাবরই বেদী রক্ষা কমিটি তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই বেদী শ্রমিক শ্রেণীর আত্মমর্যাদার প্রতীক, ঐক্যবদ্ধতার স্বাক্ষর, এবং প্রদেশের তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শোষণ গণহত্যার বিরুদ্ধে মূর্ত দৃঢ় প্রতিবাদ। এটি রক্ষায় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে এই কমিটি।
প্রতিবাদ সমাবেশে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রুহুল আমিন বলেন, আমাদের মূলমন্ত্র “শহীদ শ্রমিক ভাই-বোনদের রক্তে মাখা শহীদ বেদী ভাঙ্গে যারা, তাদের রুখবো আমরা শ্রমিক কৃষক মেহনতি জনতা”। শ্রমিক ভাই-বোনদের হত্যার প্রতিবাদ প্রতিরোধের সাথে আমি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। কেউ এর উপর আঘাত করবেন না। এ বেদী যারা ভাঙ্গে তারা সচেতন প্রক্রিয়ায় মালিক শ্রেণীর স্বার্থে কাজ করে। নয়তো অসচেতনভাবে মালিক শ্রেণীর চেতনা ধারণ করে এবং গণবৈরী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হয়। আমরা শহীদ বেদী ভাঙ্গার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদস্য-সচিব ইমাদুল ইসলাম এমদাদ, আহমেদ জীবন ও কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। উপস্থিত সবাই শহীদ বেদী ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধই এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে দুর্ঘটনাস্থলের সামনে ২ আগস্ট শুক্রবার স্থায়ী শহীদ বেদী নির্মাণ করা হয়। রানা প্লাজা ধসের পর ধসে পড়া ভবনের সামনে শহীদ বেদী নির্মাণের লক্ষ্যে ল্যাম্প পোস্ট, প্রপদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, দাবানল, ছাত্র গণমঞ্চ, মার্ক্সবাদের প্রথম পাঠ ও গণমুক্তির গানের দলের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় শহীদ বেদী নির্মাণ কমিটি। এর পর থেকে বেদী নির্মাণের জন্য কাজ করতে থাকে সংগঠনগুলো। সর্বশেষ গত ২৪ মে ধসে পড়া ভবনের সামনে প্রথম অস্থায়ী বেদী নির্মাণ করা হয়। এর দুই মাসেরও বেশি সময় পর নির্মাণ করা হয় স্থায়ী বেদী।
Leave a Reply