কাজী নাফিস ফুয়াদ মাদারিপুর প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চাকরির লোভনীয় অফার দিয়ে অসহায় তিন পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আরিফ হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ছয় মাস আগে চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিলেও কাউকে চাকরি দিতে পারেননি তিনি। চাকরি না পেয়ে টাকা ফেরত পেতে চাইলে হুমকির স্বীকার হচ্ছেন তারা এবং টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করছেন আরিফ। এ ব্যাপেরে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভুগি তিন পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার সৈদারবালী ৪ নং ওয়ার্ড এর মো: হায়দার হাওলাদরের ছেলে মো: আরিফ হাওলাদার (২৭) চাকরি দেয়ার কথা বলে তিন পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদারীপুর সদর উপজেলা খোয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবর কাজির ছেলে মিলন কাজি (২০), মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজির হাওলা এলাকার বাসিন্দা মোবারক কাজীর ছেলে জিয়াউল কাজী (১৮) এবং একই এলাকার বাসিন্দা তবারক কাজীর ছেলে তরিকুল ইসলাম (১৯)। তারা তিন জনই স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। এ তিন পরিবারের তিন সদস্যকে চাকরি দিবে বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রলোভন দিয়ে আসছিলো আরিফ। এক পরর্যায়ে আরিফের প্রলাভনে পরে চলতি বছরের গত (৯ ফেব্রুয়ারি) তিন পরিবার যৌথভাবে পাঁচ লাখ টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলেদেন তার হাতে। এক মাসের মধ্যে চাকরি দিবে বলে টাকা নিলেও আজও চাকরি দিতে পারেননি তিনি। চাকরি না পেয়ে টাকা ফেরত পেতে চাইতে গেলে হুমকির স্বীকার হচ্ছেন তারা এবং টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করছেন আরিফ।
ভুক্তভোগি পরিবারের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চাকরির লোভনীয় অফার এর কথা শুনেই আরিফের পাতানো ফাঁদে পা দেন তারা। তাদের মধ্যে তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি চুক্তি হয়। কিন্তুু এত টাকা তারা এক সাথে দিতে অস্বকৃতি জানায়। এরপর মিলন কাজির পরিবারের কাছ থেকে দু লাখ টাকা , জিয়াউল কাজীর পরিবারের কাছ থেকে এক লাক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং তরিকুল ইসলাম এর পরিবারের কাছ থেকে এক লাক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয় আরিফের হাতে। বাকি টাকা চাকরি হওয়ার পরে দিবে বলে কথা হয় তাদের মাঝে। কিন্তু চাকরি না দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরাতে থাকে আরিফ। এক পর্যায়ে আরিফকে কে টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে চাপ দিলে হুমকির স্বীকার হন তারা এবং কোন টাকা নেয়নি বলে দাবী করেন আরিফ। এদিকে নিজেদের দেয়া টাকা ফেরত চান ভুক্তভুগি তিন পরিবার।
ভুক্তভুগী মিলন কাজির বাবা মজিবর কাজি সাংবাদিকদের বলেন,আমি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আমার অনেক আশা ছিল আমার ছেলে সরকারি চাকরি করবে। আরিফ আমাদের ভালো চকরির কথা বল্লে আমি রাজি হই। আমি আমার দুটি গরু বিক্রি করে আরিফকে দুই লক্ষ টাকা দেই। টাকা দিয়ে এখন আমি অসহায় অবস্থায় আছি।
ভুক্তভুগী জিয়াউল কাজীর বাবা মোবারক কাজী বলেন, আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। অনেক কষ্টে আমি এক লক্ষ পঁঞ্চাশ হাজার টাকা জোগাড় করে আফিকে দেই। এখন আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
ভুক্তভুগী তরিকুল ইসলামের বাবা তবারক কাজী বলেন, আমি লোন করে তাকে ( আরিফকে) টাকা দিয়েছি, টাকা গেলেও চাকরি পায়নি আমার ছেলে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং আরিফের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আরিফ হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেই নি। তারা আমার ব্যাপারে মিথ্যা অভিযোগ করতেছে। তাদের কাছে টাকা নেয়ার ব্যাপারে কোন প্রমান নেই।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞাঁ বলেন, আমার এ ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেব।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আরিফ হাওলাদার বলেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়।
Leave a Reply