ইমাম হাছাইন পিন্টু নাটোর:
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলাধীন কাছিকাটা মোড়ে একটি পিকআপ গাড়ী ঢাকা মেট্রো ন-১৭-৮৪৩৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই দুই মহিলাসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শিশুসহ ৭ জন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নাটোর জেলা প্রশাষক মোঃ শামিম আহমেদ,পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা,গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাসেল, গুরুদাসপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আঃ রাজ্জাক সহ গনমাধ্যম কর্মী।
নিহতরা হলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার মৃত নাহারুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫), মৃত শমসের মোল্লার ছেলে আবু আফফান (৫২) ও তার স্ত্রী আরিফা খাতুন (৪০), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩২), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল গ্রামের আল মামুন (৩৩) এবং নিহত অপর এক মহিলার (৩০) পরিচয় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আহতদের গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন, ময়মনসিংহের ফুলপুরের ধামুর গ্রামের একই পরিবারের হুমায়ন ফরিদ (৪৫) তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৩৫) ও ছেলে আদিল (৮), দৌলতপুরের ফিলিপনগর গ্রামের আকবর আলী (৩৯) ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া গ্রামের বিলকিস (২৮) ও তার দুই বছরের শিশু ত্বোহা। আহত ফরিদার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রিপার্ট করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পিকআপটি ( কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে কাছিকাটা মোড় ঘুরতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের নিচে খাদে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিকআপ চালক পলাতক রয়েছেন। এ ব্যাপারে সড়ক দূর্ঘটনা আইনে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
নাটোর জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানিয়েছেন, একটি মিনি ট্রাকে কিছু মানুষ কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধনে আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল পরিদমর্শনকালে জেলা প্রশাসক নিহতদের মধ্যে নাটোর জেলার কেউ থাকলে তার দাফন সহ যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দের ঘোষনা দেন। জেলার নিহত ব্যক্তির জন্য গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষনা দেন। এছাড়া অন্য কোন জেলার নিহতদের জন্য লাশ বহন ও দাফনের সকল খরচ বহনেরও ঘোষনা দেন তিনি।
Leave a Reply