ফরিদুল ইসলাম রানা
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন। বিভিন্ন দিক থেকে এই ইউনিয়নটি একটু ভিন্ন। চতুর্দিকে ভারত বেষ্টিত এই ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার।এখানে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি কোন প্রকার চিকিৎসক থাকেনা। চিকিৎসক আসে সপ্তাহে দুদিন তাও সকাল ১০ টার সময় আসলেও দুপুর ০১ টার দিকে চলে যায় পাটগ্রামে।
এখানে স্বাস্থ্যসেবা বলতে সাধারণ মানুষের জীবন বাচাঁয় দহগ্রাম ইউনিয়নে ৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। দহগ্রাম সৈয়দ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, মহিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক এবং আঙ্গোরপোতা কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এ উদ্যোগ। লালমনিরহাট জেলার প্রত্যন্ত এই ইউনিয়নে ১৭ হাজার মানুষ আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তাই ঘরের পাশে অসুখ-বিসুখের প্রতিকারমূলক চিকিৎসা সেবা পেয়ে কিছুটা আনন্দিত দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ ।
ক্লিনিক সেবার মাধ্যমে কমে এসেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। এছাড়া গর্ভকালীন প্রসব পরবর্তী, নবজাতক শিশু, কিশোর-কিশোরী, রোগ প্রতিরোধে টিকা, পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সহায়তায় কমিউনিটি ক্লিনিকই এখন পরম ভরসাস্থল দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষের। দহগ্রামে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকলেও এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোকে আর্শিবাদ বলে মনে করেন এখানকার সাধারণ মানুষ ।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানা যায়, দহগ্রাম ইউনিয়নে মোট ৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে যা প্রতিদিন সাধারণ মানুষদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছে মানুষের কাছে।
স্থানীয় মহিমপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভিড় রয়েছে। একজন স্বাস্থ্য কর্মীর পক্ষে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসা সেবা দিতে। ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য কর্মী রাজু আলমগীর জানান, গত জানুয়ারি থেকে ০৯ই আগষ্ট পর্যন্ত এ ক্লিনিকে ৬ হাজার জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাধারন রোগী ০৪ হাজার, মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ৮০০ এবং নবজাতক ও শিশু রোগী রয়েছে ১২০০ জন। একইসাথে চলতি মাসের ৮ দিনে ৫০০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক পরামর্শ সেবা দেয়া হয় বলে জানান এ স্বাস্থ্য কর্মী।
সৈয়দ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী নুরুজ্জামান বলেন, আমার এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের পাশাপাশি চরাঞ্চল রয়েছে, চরাঞ্চলের মানুষের কাছে ক্লিনিকের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বর্ষা মৌসুমে উত্তাল তিস্তা পারি দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে কষ্ট হয়। তখন কমিউনিটি ক্লিনিকই তাদের ভরসাস্থলে রূপ নেয়।
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে দহগ্রাম ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনতে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সংযোগ মিলেনি।
এ ব্যাপারে দহগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান বলেন,অনেকবার জেলা,উপজেলা সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলার পরেও হবে -হবে করে আর দহগ্রাম মেডিকেলের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। কেন এমনটা হচ্ছে আমি নিজেও জানিনা,,আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি অনুরোধ করবো দহগ্রাম ইউনিয়নের মেডিকেলের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তিনি যেন সুদৃষ্টি রাখেন।
দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিউল আলম বাবলু বলেন, ২০১১ সালের ১৯শে অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম মেডিকেল উদ্বোধন করেন,কিছুদিন চলার পরে তা বন্ধ হয়ে যায়,প্রধানমন্ত্রীর উপহার দহগ্রাম ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য একটি এ্যাম্বুলেন্স সেটিও ব্যাবহার করছে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র আমরা এর প্রতিকার চাই।
Leave a Reply