বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
সখীপুরে “মৃত্যু বার্ষিকীতে” খাবারের আয়োজন না করে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরন

সখীপুরে “মৃত্যু বার্ষিকীতে” খাবারের আয়োজন না করে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরন


বাদল হোসাইন সখীপুর:

নানাভাবে খরচ করে পালন করা যেতো মৃত্যু বার্ষিকী। কিন্তু তাতে কী সকল সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হতো? এসব ভেবে চিন্তে মরহুমের স্ত্রী -সন্তানরা বাড়িয়ে দিলেন মানবতার হাত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহানের কাছে তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেন করোনায় মারা যাওয়া গিরিশচন্দ্র কর্মকারের পরিবারের সদস্যরা।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বাসিন্দা গিরিশচন্দ্র কর্মকার (৭০) গত বছরের ৫ আগস্ট আজকের দিনে করোনায় মারা যান। বৃহস্পতিবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের। চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সেই আয়োজন না করে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দিয়েছেন তাঁরা।

 বৃহস্পতিবার গিরিশচন্দ্রের স্ত্রী পারুল বালা কর্মকার, বড় ছেলে স্বপন কর্মকার ও ছোট ছেলে কৃষ্ণ কুমার কর্মকার তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হন। পরে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান ও আবাসিক কর্মকর্তা ডা.নাজমুল হাসান মাসুদ রানার কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো তুলে দেন।
করোনায় মারা যাওয়া গিরিশচন্দ্র কর্মকারের ছোট ছেলে কৃষ্ণ কুমার কর্মকার বলেন, ‘এক বছর আগে এই দিনে আমার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বাবা ছিলেন উপজেলায় করোনায় মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয়। ওই সময় আমাদের বাড়ির আশপাশের সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়ার কমপক্ষে ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়। আমরাও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে ছিলাম। বাবার মৃত্যু উপলক্ষে এক লাখ টাকা স্থানীয় মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়নের জন্য দান করেছিলাম। এবার বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ও অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর হার বাড়ায় মা ও বড় ভাই মিলে ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছি। মা চাইছেন আমার বাবার মতো শ্বাসকষ্ট নিয়ে অক্সিজেনের অভাবে আর কেউ যেন মারা না যান।’

 উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে কমপক্ষে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। সখীপুরের মানুষ খুবই মানবিক। তাঁরা যেকোনো ভালো কাজে এগিয়ে আসেন। দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার খোদেজা খাতুন একটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর কিনে দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর খরচ বাঁচিয়ে করোনা রোগীর জন্য হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দেওয়ার চিন্তাটা অনেক ভালো। এ ধরনের মানবিক কাজে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com