বড়লেখা বিশেষ প্রতিনিধি :
মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন ২০২১ সালের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী কার্যক্রম থেকেই বৃক্ষরোপণের পিছু লেগে রয়েছেন। গাছ লাগানোই যেন তাঁর নেশা। এ নেশা আর পিছু ছাড়েনি। প্রতিদিন তিনি সরকারি পতিত জমি, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও পুকুর পাড়ে এলাকার পার্শ্ববর্তী আঙিনায় পাহাড়ি টিলায়,নদীর পাড়ে, খাল-বিলের আশে-পাশে, হাওরে লোকবিশ্রাম্য জায়গায় নৃত্যদিনে বৃক্ষ চারা রোপণ করে যাচ্ছেন। ছুটির দিনে কিশোরদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, দেশি ও নানা প্রজাতির কিছু বৃক্ষরোপণ করতে। এর মধ্যে আবার কিছু গাছ আছে ঔষধি গুণসম্পন্ন। প্রতিটি গাছের পেছনে তিনি সময় দেন এবং নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। এখন তিনি বৃক্ষ রোপণকে যেন নেশায় পরিণত করে ফেলেছেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো সময় তার বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি চলতে থাকে অবিরাম। মনে হয় বৃক্ষরোপণ করেই যেন তৃপ্তি পান। রোপণ করেন ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। বড়লেখা উপজেলাকে বৃক্ষরোপণ করে সবুজে রূপায়ণ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তিনি বড়লেখা উপজেলার পৌর শহরের তেলিগুল গ্রামের বাসিন্দা।মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন জনপ্রতিনিধি এবং জননেতাও বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক শাখা এবং প্রত্যেক ইউনিয়ন নেতা-কর্মীকেও বৃক্ষ রোপণের তাগিদ দিয়েছেন। বড়লেখা দুর্বার মুক্ত স্কাউট সদস্যদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণে ছুটে চলেন প্রকৃতির বৃক্ষ বিহীন যায়গায়। তাছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বৃক্ষ রোপণের উৎসাহিত করেছেন। তিনি শুধু একক ভাবে বৃক্ষ রোপণ না করে উপজেলার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে সামগ্রিক ভাবে বৃক্ষ রোপণে অনুপ্রেরণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচিতে তাজ উদ্দিন বলে,গাছ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করার পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে সময় মত বৃষ্টিপাত হয়। বন হচ্ছে বিভিন্ন প্রাণি ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বন কেটে উজাড় করার কারণে বনের প্রাণি আজ লোকালয়ে এসে করোনাসহ বিভিন্ন মহামারির সৃষ্টি করছে। বাড়ছে বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি। এই অভিশপ্ত পরিবেশকে তার পরিপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে আমাদেরকে বৃক্ষ রোপণে আগ্রহী হতে হবে। প্রতিদিন অন্তত তিনটি গাছ লাগানোর অভ্যাস করতে হবে। এবং পরিচর্যায় ও নিয়মিত দৃষ্টি গোচর রাখতে হবে। আমরা সকলে যদি উদ্বুদ্ধ হয়ে বৃক্ষ রোপণ করি তাহলে আমাদের উপজেলায় পরিবেশের পর্যাপ্ত বনায়ন এবং সবজাচ্ছাদিত করতে পারবো। তাই উপজেলার সকালের প্রতি পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষ রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতি শুক্রবার মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনকে দেখা যায় বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে চারা রোপণ করতে। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় ‘বৃক্ষপ্রেমিক’ নামে সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর বৃক্ষপ্রীতির কথা ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে। একজন ব্যস্ততম জনপ্রতিনিধি হয়েও গাছ লাগিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন তিনি। এদিকে তিনি বড়লেখা উপজেলা বাসীর আস্থাভাজন এক ব্যাক্তি সাধারণ মানুষের কথা মূল্যায়িত হয় তার কাছে। জনতার প্রয়োজনে সুখে-দুঃখে ছুটে চলেন তাদের মাঝে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের আস্থাও কুড়িয়ে নিয়েছেন। মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার হ্রাসে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া বৃক্ষ থেকে আমরা প্রচুর ফল, ফুল ও কাঠ পাই যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজন। মানুষের বসবাসের উপযোগী ভারসাম্যপূর্ন পৃথিবীর প্রয়োজন গাছ। আমার প্রত্যাশা বড়লেখাসহ বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তর সবুজের সমারোহে ছেয়ে যাক, পৃথিবী পাক তার আপন স্বরূপ।’
Leave a Reply