নিজস্ব প্রতিনিধি:
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সব সময়ই মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই পর্যন্ত র্যাব বিপুল পরিমাণ দেশী/বিদেশী মাদক উদ্ধার করে জনমনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। “চলো যায় যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” এই স্লোগানে উজ্জ¦ীবিত হয়ে আমরা র্যাব ফোর্সেস মাদক চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। মাদক কারবারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত অভিনব কৌশল অবলম্বন করে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীরা রাজধানী ঢাকাকে মাদক ব্যবসার জন্য ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশর্^বর্তী দেশ হতে নৌ-পথে আগত ইয়াবা ট্যাবলেটের চালানগুলো কক্সবাজার হতে সড়ক, রেল ও বিমানপথে ঢাকায় নিয়ে আসার পর মাদক ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। র্যাব এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ যাবৎ র্যাব-১ অসংখ্য সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে এবং মাদক কারবারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।
চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় র্যাব-১ গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদকদ্রব্য ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার হতে বিশেষ কৌশলে (পাকস্থলির ভিতর) বহন করে প্রাইভেটকারযোগে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে।
৩।অতঃপর গত ০৩ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ অনুমানিক ২৩৩০ ঘটিকায় র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন পৌরসভাস্থ কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে। চেকপোস্ট চলাকালীন একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-৩৩-৮৯১৫) দ্রুতগতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করলে উক্ত গাড়ির গতিরোধ করে বর্ণিত গাড়ি হতে চালকসহ আন্তঃ জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় ০৬ জন সদস্য ১) মোঃ ইমন হোসেন (২০), জেলা-গোপালগঞ্জ, ২) মোঃ আজিজুল ইসলাম (২২), জেলা-লালমনিরহাট, ৩) মোঃ শাহিন মন্ডল (৩০), জেলা-শেরপুর, ৪) মোঃ মামুনুর রশিদ (২৫), জেলা-শেরপুর, ৫) মোঃ হাসিবুর রহমান ইয়াছিন (১৮), জেলা-জামালপুর এবং ৬) মোঃ ইমরান (৩১), জেলা- চট্টগ্রাম’দেরকে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ১৬,০৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০৯ টি মোবাইল ফোন, নগদ ১,৯০০/- টাকা এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
ধৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা “ফিউচারটেক ২০ টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস কোম্পানী” নামীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হিসেবে ভূয়া পরিচয়পত্র ধারণ পূবর্ক “জরুরী মোবাইল টাওয়ারের কাজে নিয়োজিত” স্টিকার ব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসছিল। ধৃত আসামীদের হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হলে আসামীদের পাকস্থলিতে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের সহায়তায় আসামীদের পাকস্থলি হতে বিশেষ কৌশলে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ইয়াবার চালানগুলো বিভিন্ন পরিবহণের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে মাদক পরিবহনে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এই চক্রের অন্যতম সদস্য কক্সবাজারের জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পেশায় শ্রমজীবী। তারা বিগত ০৩ মাস যাবত বর্ণিত কৌশল অবলম্বন করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকায় নিয়ে এসেছে। তারা ইতিপূর্বে ১০/১২ টি ইয়াবার চালান রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply