রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি দখল করতে আসা ভাড়াটে দুই সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ক্ষুব্দ এলাকাবাসী। এসময় অপর দুই ভাড়াটে সন্ত্রাসী ঘটনাস্থল থেকে পালিযে গেছে।
তবে সন্ত্রাসীদের হামলায় জমির মালিক সকিয়ত আলীর স্ত্রী ও দুইজন আত্মীয় রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার(২ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আটক ২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে রৌমারী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোন্তাছের বিল্লাহ। রৌমারী থানার মামলা নং ১, তারিখঃ ০২.০৮.২০২১, ধারাঃ ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/ ৩৭৯/৪২৭/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড। আসামীরা হলেন, (১) মোঃ সাদেকুল আলম সেতু(৩২), পিতা- মোঃ হারুন অর রশিদ, সাং- কায়ম বোয়ালমারী (২) মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ(২৮), পিতা-মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, সাং-মন্ডল পাড়া (৩) মোঃ শামীম হোসেন(২৭), পিতা-মোঃ আব্দুর রশিদ, সাং-মন্ডল পাড়া, (৪) মোঃ বেলাল হোসেন(৩৫), পিতা-আলহাজ্ব ফয়জাল @ ইমান আলী, সাং-রৌমারী বাজার (৫) মোঃ দুলাল হোসেন(৪০), পিতা-আলহাজ্ব ফয়জাল @ ইমান আলী, সাং-রৌমারী বাজার (৬) মোঃ রাশেদুল ইসলাম(১৯), পিতা-মোঃ আইয়ুব হোসেন, সাং-কায়েম বোয়ালমারী, সর্ব থানা-রৌমারী, জেলা-কুড়িগ্রাম।
তারমধ্যে এলাকাবাসী কর্তৃক গণপিটুনীর শিকার হওয়া আটক ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হলেন, রৌমারী উপজেলার শোলমারী ইউনিয়নের ভিটাবাড়ী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে সাদেকুল আলম সেতু(৩২) ও দক্ষিন বাউশমারী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে হাফিজুর রহমান(২৮)আহতরা হলেন, উপজেলার শোলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামের জমির মালিক সকিয়ত আলীর স্ত্রী রহিমা বেগম, তার আত্মীয় মৃত আবুল হোসেনের ছেলে রহিম বাদশা ও মৃত ছক্কু মিয়ার স্ত্রী রুকসানা খাতুন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে সকিয়ত ও বেলালের মধ্যে বিবাদ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে বেলাল টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনেন জমি দখলে নিতে। সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে আসলে জমির মালিক সকিয়তের স্ত্রী ও তার স্বজনরা বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করলেও অপর দুই ভাড়াটে সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। আটক দুইজন ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন এলাকাবাসি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রৌমারী উপজেলার অনেকে প্রতিবেদককে জানান, সাদেকুল আলম সেতু গং রৌমারী উপজেলার আতঙ্ক। একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এরা বেপরোয়া। এরা প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না। আটক হওয়ায় রৌমারীতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসির রোষে পড়ে বেলাল হোসেন ও তার লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রৌমারী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, আটক ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
Leave a Reply