মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
করোনাকালীন সময়েও কুমিল্লায় বেড়েছে খাদ্য উপাদন। এই মহামারির আগের অর্থ বছরের চেয়েও এবার বেশি উৎপাদন হয়েছে ৭৫ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন খাদ্য। জেলার খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে ৯১ হাজার ১০০ প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে পূর্নবাসন ও প্রণোদনার বীজ, সারসহ কৃষি উপকরন।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট দুই লক্ষ ১৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। এবার করোনা মহামারির আগের চেয়ে ফসল উৎপাদন হয়েছে বেশি। মহামারিতেও লক্ষ ঠিক রেখেছে কুমিল্লার কৃষকরা। এবার করোনাকালিন সময়ে ২০২০-২০২১অর্থ বছরের জেলায় আউস, আমন, রোপা, বোরো ধান থেকে মোট চাল উৎপাদন হয়েছিলো ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪২১ মেট্রিক টন চাল। তাছাড়া গম ভূট্রা আলু, সবজিসহ অন্যান্য কৃষি ফসল উৎপাদন হয়েছে চার লক্ষ ৭২ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন।
এদিকে করোনা মহামারির আগের বছর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে জেলায় আউস, আমন, রোপা, বোরো ধান থেকে মোট চাল উৎপাদন হয়েছিলো ১১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬২১ মেট্রিক টন চাল। তাছাড়া গম ভূট্রা আলু, সবজিসহ অন্যান্য কৃষি ফসল উৎপাদন হয়েছে ৩ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন।
কৃষি অফিস জানায়, সারা দেশের তুলনায় হাইব্রীড ধান ও ভূট্রার ক্ষেত্রে কুমিল্লা উৎপাদন অনেক বেশি। কুমিল্লার কৃষকরা হাইব্রীড ধানে খুবই উৎসাহিত এবং তারা দ্রুত আধুনিক টেকনোলজি গ্রহণ করেন। কৃষকদের কোন ধরনের অসুবিধা না হয়। সেজন্য কৃষি উপকরনের দোকানগুলো খোলা রাখা হয়েছে। সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না সেজন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা হয়েছে। কৃষকদের সাথে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক সমন্বয় করে কাজ করছে।
প্রনোদনার ধানের বীজ পাওয়া সদর উপজেলার বাজগড্ডা এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল জানান, করোনাকালিন সময়ে সরকারের এই সহযোগিতা চাষাবাদে তাদের উৎসাহিত করেছে।
সদরের চাঁপাপুরের আরেক কৃষক মমিন মিয়া পেয়েছেন সার। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা সবসময় সহযোগিতা করছেন। দু দফায় তিনি ২০ কেজি সার ও কেজি বীজ পেয়েছেন। এগুলো দিয়ে তিনি চাষাবাদ করছেন।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালেকুর রহমান জানান, এই মহামারির সময়েও আমরা একদিনের জন্য বসে নেই। প্রতিদিনই কৃষকদের জন্য মাঠে যাচ্ছি। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছি।
আদর্শ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আওলিয়া খাতুন বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেও সাথে কথা বলে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি। সদরে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের পূর্নবাসন ও প্রনোদনা হিসেবে ৫৮০ জনকে সার বীজ দেওয়া হয়েছে। ১২টি প্রর্দশনীর পুষ্টি বাগান করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, যে কোন মহামারী বা দুর্যোগের সময় দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার উপর একটা প্রভাব পড়ে। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার এটা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। তাই সরকারের নীতিনির্ধারকরা সেইভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এই মহামারি সময়েও আমাদের কুমিল্লা জেলায় খাদ্য উৎপাদনে কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নাই। বরং আমাদের খাদ্য উৎপাদন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হলো সরকার খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। গত অর্থবছরে কুমিল্লার ৯১ হাজার ১০০ কৃষককে বিভিন্ন ধরনের ফসলের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যাতে আমাদের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে পারে।
Leave a Reply