বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষার শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষা দিলেও এবার মূল্যায়ন হবে ভিন্নভাবে। যদিও গত বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে আলিম পরীক্ষা না নিয়ে দেয়া হয় অটোপাস। তবে এবার দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের অটোপাস না দিয়ে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ১৮ই জুলাই এসএসসি/সমমান ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষার মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক বিষয়ের উপর প্রতি সপ্তাহে দুটি করে বার সপ্তাহে মোট চব্বিশটি অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ আগস্ট প্রথম পর্যায়ে তিন সপ্তাহে ছয়টি অ্যাসাইনমেন্ট স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বোয়ালখালীর শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসায় গত ২৮ জুলাই দাখিল পরীক্ষার্থীদের কভার সহ অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এই প্রশ্ন ও কভার দিতে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে ফি নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন ও কভার পেইজ দেওয়ার জন্য আমাদের কাছ থেকে একশ টাকা করে দাবি করলেও আমাদের আন্দোলনের চাপে পড়ে তা পঞ্চাশে নেমে আসে। তা দিতে অনিচ্ছুক হলে অ্যাসাইনমেন্ট না দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে আমরা একজনে নিয়ে ফটোকপির কথা বললে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে।
শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার অন্য আরেক ছাত্র বলেন, টাকা দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট না নেওয়া কথা বললে, ওই ছাত্র আবাসিক থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলে এবং যারা টাকা দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়েছে তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার নিয়ে তালিকাভুক্ত করে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ফটোকপি করে কেউ লিখে জমা দিলে তারগুলো জমা নেওয়া হবে না বলে।
শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার এক ছাত্রী বলেন, বাবা বেকার, বড় ভাই ভ্যান চালিয়ে লেখাপড়ার খরচ দেয়। এ লকডাউনে রোজগার করে ঘর চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তার মধ্যে অ্যাসাইনমেন্টের জন্য মাদ্রাসায় টাকা দাবি করছে। এখন অ্যাসাইনমেন্টগুলো যেন আমাদের মতো পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য গলারকাঁটা মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। না পারছি খেতে, না পারছি ফেলতে।
শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন ফটোকপি খরচটা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার কেউ যদি টাকা চেয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এবিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অজন্তা ইসলাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি মতে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ফি/পরীক্ষা ফি/মূল্যায়ন ফি বাবদ কোনো রকম অর্থ নেওয়া যাবে না। তবে মাদ্রাসাটি যদি এরকম করে থাকে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ঐ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply