মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়ন। এ ইউনিয়ন ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে করোনা মহামারী প্রকোপ বেড়েছে। শুধু গ্রামে গ্রামেই নয়, অনেকটা বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। টেস্ট করালেই মিলছে ‘পজেটিভ’ রির্পোট। পল্লী চিকিৎসকই এক সময় ভরসা হলেও একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় টনক নড়েছে।
এদিকে করোনাকালে অক্সিজেন সেবা দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে কালির বাজার ইউনিয়ন এলাকার যুব সমাজ, ব্যবসায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রবাসীসহ বৃত্তবানরা। মহামারীর এই ক্রান্তিলগ্নে ইউনিয়নে তিন তিনটি ফ্রী অক্সিজেন ব্যাংক চালু করেছেন তারা। ফোন পেলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে করোনা আক্রান্তদের ঘরে হাজির হয় মানবিক কর্মীরা। মানবতার কল্যাণে মানুষের পাশে দাঁড়াতে রীতিমতো তাদের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা ।
স্থানীয়া জানান, অক্সিজেন সংকটে ঈদের আগে মারা যায় কমলাপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক মো. ইউনছ মিয়া, ভল্লবপুর গ্রামের জামাল হোসেন,ধনুয়াখলা গ্রামের লিটন সহ এলাকার বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগী। টনক নড়ে সচেতন নাগরিকদের। এলাকার যুব সমাজ উদ্যেগী হয়ে গঠন করে অক্সিজেন ব্যাংক। এগিয়ে আসে এলাকার বৃত্তবানরা। বর্তমানে স্বেচ্চাসেবী সংগঠন ‘মানবিক কালিরবাজার’, ‘কালিরবাজার ব্লার্ড ব্যাংক’, ‘বেগম করফুলেরন্নেছা ফাউন্ডেশন’, ‘আবুল কালাম ফাউন্ডেশন’ শিল্পপতি আলহাজ¦ মো.নুরুল ইসলাম ,ব্যবসায়ী আবুল বাসার ভূইয়া বশির সহ বেশ কয়েকজন বৃত্তবান ব্যক্তি ও ফাউন্ডেশন।
এদিকে প¦ার্শবর্তী বরুড়ার আগানগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের যুবসমাজ এলাকায় অক্সিজেন ব্যাংক গঠন, ভ্যাক্সিন নিবন্ধন, করোনামুক্ত থাকার নানান উপায় নিয়ে গণ সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
ভল্লবপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. নূরুন্নবী সিদ্দিক , কালিরবাজারের পল্লী চিকিৎসক ডা. মীর আহাম্মেদ ও কমলাপুর গ্রামের ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক রোগি বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও বেডের ব্যবস্থা করতে না পেরে বাসায় অবস্থান করছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনা রোগীদের ফ্রি অক্সিজেনসহ নানা সেবা নিয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কালীরবাজারের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন । যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ইউনিয়নের বেলুনগর গ্রামের বাসিন্দা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের কোভিড ইউনিটের চিকিৎসক ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের কালিরবাজার এলাকায় রোগী ছিল হাতে গুনা। বর্তমানে কালিরবাজার ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে করোনা রোগী রয়েছে। প্রতিদিনই সরাসরি ও টেলিফোনে কমপক্ষে ২০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অচেতনতার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে । শুধু চিকিৎসা দিয়ে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষ কে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে ঘরে থাকতে হবে, মাস্ক পড়তে হবে,টিকা নিতে হবে।
কালিরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো. সেকান্দর আলী বলেন, সচেতন যুব সমাজ ও প্রবাসীরা চলমান করোনা সংকটে এগিয়ে এসেছে। যুবকরা মানুষের বিপদ আপদে ডাক পেলে ছুটে যান। মানবিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের এ কাজে যে কোনো সহযোগিতা পাশে আছি।
Leave a Reply