সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
তানোরে সমাজসেবার ভাতা পাননি ১৫০০জন ভাতাভোগী

তানোরে সমাজসেবার ভাতা পাননি ১৫০০জন ভাতাভোগী


সোহেল রানা-তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ 


সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গরিব অসহায়দের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নগদের মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তানোরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে গত মে মাস থেকে। তবে নানা জটিলতার কারণে ভাতার টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না অধিকাংশ অসহায় জনসাধারণরা।

এর আগে সহজেই ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উঠাতে পারলেও বর্তমানে ডিজিটালের ছোবলে ১৫০০০ হাজার জন ভাতাভোগীর মধ্যে ১৫০০জন ভাতাভোগী তাদের ভাতার টাকা পান নি। আর এই ভাতার টাকা না পাওয়া মানুষগুলো প্রতিদিন তানোর সমাজসেবা অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকে কয়েক মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সংগ্রহ করতে পারছে না ভাতার টাকা। এতে করে তানোরে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অসহায় দরিদ্র ও ভাতার টাকার ওপর নির্ভরশীল সাধারন মানুষগুলো।

তানোর উপজেলার কাঁমারগা ইউনিয়নের মহাদেবপুর এলাকার বাসিন্দা অসহায় রাহেলা বেগম। গত তিন বছর ধরে নিয়মিত ব্যাংকের মাধ্যমে বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে ভাতা পাচ্ছেন না তিনি। এ জন্য তিনি তানোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলছে আমার টাকা কোনো একটা নম্বরে ভুলের কারণে নাকি আমি এত দিন পাই নাই। এখন আর আমার টাকা দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে আবার বাজেট হলে নতুন করে দেওয়া হবে। আমার গত ৬ মাসের টাকা আমি পেলাম না। অথচ এই টাকাটা দিয়ে আমি প্রতি মাসে ওষুধ কিনে খাই।

এ বিষয়ে কলমা ইউপি এলাকার বয়স্ক ভাতাভোগী তোফজুল বলেন কয়েকমাস ধরে সমাজসেবা অফিসে ধরনা দিয়ে জানতে পারলাম আমার টাকা ভুল নাম্বারে চলে গেছে। আর এর দায় তারা নিতেও চাচ্ছে না। আমি কি আমার নিজের নম্বর ভুল বলবো বলেন? যে নম্বরে টাকা গেছে ওই লোকও কল ধরছে না। আমার মতে আবার আমাদেরকে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হউক। সেটাতেই আমরা খুশি। আমি ব কলম মানুষ আমি কি মোবাইলের মারপ্যাঁচ বুঝি।

সরেজমিন তানোরের প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এমন অহরহ সমস্যা। প্রতিটি ইউনিয়নেই এ সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিদিনই ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করছে ভাতা না পাওয়া লোকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের নগদ পিন নম্বরটি জানেন না। কারো কারো মোবাইল নম্বর ভুল উঠানো হয়েছে। কারো কারো ২/১টা ডিজিট ভুল উঠেছে। কারো কারো অন্য অপরিচিত নম্বরে টাকা চলে গেছে। বেশির ভাগের টাকা অন্য নম্বরে ভুলে চলে যাওয়ার কারণে গত ৬ মাসের ভাতা বঞ্চিত হয়েছে ১৫০০জন ভাতাভোগী। আর এই ভুলের দায় সমাজসেবা অফিস বা স্থানীয় নগদ কর্তৃপক্ষ কেউ নিতে চাইছে না। তারা একে অপরকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে।

স্থানীয় কয়েকজন জনসাধারণের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আগে ভাতার টাকা ব্যাংকে দেওয়া হতো, সেটাই ভালো ছিল। এখন ডিজিটাল করাতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা যারা নেয়, তাদের অনেকের মোবাইল ফোন নেই, নেই নগদ একাউন্ট, টাকা সংগ্রহের জন্য তাদের তৃতীয় পক্ষের আশ্রয় নিতে হয় এটা একটা অসুবিধা। অনেকেই নগদেও পিন নম্বর কি সেটা জানেন না এটা একটা সমস্যা। এছাড়া যারা এই ভাতা সুবিধা ভোগকারীদের একাউন্টগুলো খুলে দিয়েছেন তারা কাজের সময় খামখেয়ালী করেছে। ঠিকমতো কাজ করেনি বিধায়ই নম্বরগুলো উল্টা-পাল্টা হয়েছে।

দুই একটা ভুল হয়তো মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু অধিকাংশ নম্বরেই ভুল এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। এখানে অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা সেটা ভাবার বিষয়। তানোর উপজেলা সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানের ০১৭১২৩৫২০৬৯নাম্বারে একাধিক বার ফোন করলে ও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার কাছে অনেক ভাতাভোগী অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন।তারা আসার পর আমি নিজে সমাজসেবা অফিসারের সাথে কথা বলেছি।তারা আমাকে জানিয়েছে আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে সবার একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।প্রয়োজনে আমি আবারো কথা বলবো, সবাই যাতে টাকা পাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com