মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধানঃ
কুমিল্লায় সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম কয়েকদিন পর আবারো মানুষের উদাসীনতায় আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। লকডাউন কার্যকর করতে নগরীর সব প্রবেশ পথ ব্যারিকেট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সিএনজি গ্যাসের পাম্প ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ। এদিকে নগরীতে ৬টি সহ ১৭ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ৪০টি মোবাইল টিম অভিযান পরিচালনা করেছে। সড়কে চলাচল করায় জব্দ আছে ৮২টি যান।
জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোঃ এমদাদুল হক বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে সড়কে যান চলাচল করায় লকডাউনের প্রথম দুই দিন যানবাহন আটক করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তাদের ত্রান দিয়ে সর্তক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্ত্তীতে সড়ক যানচলাচল করায় সিএনজি, ইজি বাইক, মারতিসহ বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৮২টি যান আটক করা হয়েছে।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিয়া আফরিন বলেন, লকডাউনে সড়কে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রনের জন্য ৬০ অটোরিকশা গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন ও জরিমানা করা হয়েছে। লাকডাউনের ৬দিনের অভিযানে এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। লকডাউন শেষে গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দেয়া হবে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজল হোসেন জানান, লকডাউনের ৫ম দিনেই মানুষের উদাসীনতা দেখা যায়, সড়কে বাড়তে থাকে মানুষ ও যান চলাচল। মানুষ মনে করছে লকডাউন উঠে গেছে। লকডাউন থাকবে আরো কিছদিন দিন। তাই লকাডাউন কার্যকর রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেট দেওয়া হয়েছে, আমরা আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
বুধবার বিকালে নগরের তেলিকোনা পুলিশ চেকপোষ্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারি উপ পরিদর্শক মুমিনুল হক জানান, ব্যারিকেট দেওয়ায় নগরের প্রবেশে যানবাহন গুলো আর এখান দিয়ে আসেনা। ব্যারিকেট না থাকলে নগরে প্রবেশে অনেক মানুষ বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। এখন আমাদের নিজেদের কিছুটা নিরাপদ রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারছি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গন পরিবহন যাতে না চলতে পারে সেজন্য সিএনজি গ্যাসের পাম্পগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বন্ধে প্রায় সকল গ্যারেজের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অটোরিক্সার চালকদের আমরা খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। নগরের প্রবেশ পথগুলোতে ব্যারিকেট দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন আগের চেয়ে আরো কঠোর অবস্থানে থাকবে।
Leave a Reply