নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুর মেডিকেলের স্টোর থেকে অক্সিজেন চুরির ঘটনায় ৬ জনকে আটক ও ৩ টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
২৬ জুলাই ( সোমবার) পাবনা জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামীদের গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গত শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ০২.২০ ঘটিকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন চুরির চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জন ট্রাক চালক ও ৩ জন চালকের সহযোগীকে আটক এবং ৩টি ট্রাক জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ্ আলম সহ কোতয়ালী থানার একটি চৌকষ তদন্ত টিম তাৎক্ষনিকভাবে তদন্তকার্যক্রম শুরু করে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত টিম ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত মূল ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করে।
আসামী দুজন হলো- শাহিদ ফকিরের ছেলে সোহেল ফকির (৪২) ও মৃত মোসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে নাছিম হোসেন (২৯)। জানা যায়, আসামীদ্বয় পাবনা জেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোঃ আবু মারুফ হোসেন। তিনি জানান, আসামীদ্বয় ২/৩ বছর ধরে অভিনব কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন গাড়ির চালকের নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে দিনাজপুরস্থ ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ডভ্যান ও ট্র্যাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের মনজুরুল আলমকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসামী সোহেল ফকির নিজেকে ডাঃ রেজাউল করিম বলে পরিচয় দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রুগীদের জন্য সরবরাহকৃত অক্সিজেনের খালি সিলিন্ডার ঢাকায় প্রেরণ ও ঢাকা হতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার আনার কথা বলে ট্রাক প্রতি ৪০ হাজার টাকা করে ০৩ টি ট্রাক ভাড়া করে। শ্রমিক ইউনিয়নের মনজুরুল উক্ত বিষয়টি ট্রাক চালকের সাথে আলোচনা করলে ট্রাকের চালকেরা প্রস্তাবিত ভাড়ায় যেতে রাজী হয়। এ সময় তারাও কথিত ডাঃ রেজাউল করিম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে ভাড়া ও গন্তব্যস্থল জেনে নেয়। এরপর ট্রাক চালকেরা শ্রমিক ইউনিয়ন হতে ট্রাক ভাড়া চালান নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে এসে কথিত ডাঃ রেজাউল করিমকে ফোন করে। ঐ সময় প্রতারক সোহেল ফকির রংপুর মেডিকেলে আছে এবং তাদের কাছে আসছে বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতারক সোহেল ফকির বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল ফ্রি করে দেয়ার কথা বলে ০৩টি ট্রাকের জন্য ট্রাক চালকদের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয়। টাকা পাওয়া মাত্র প্রতারক তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
এছাড়াও জানা যায়, আসামীদ্বয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা বিভিন্ন গাড়ির পিছনে থাকা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ট্রাক ভাড়া প্রদানকারী দালালের সাথে কথা বলে প্রতারণার ক্ষেত্র তৈরী করে এবং ৩-৫ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
প্রতারকদের প্রতারণা হতে বাঁচতে সর্বসাধারণকে গাড়ি ভাড়া প্রদান ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
Leave a Reply