এস কে মুকুল, জেলা প্রতিনিধিঃ
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দ্বিতীয় দফার পঞ্চম দিনে কঠোর লকডাউনে জয়পুরহাটের
প্রশাসন মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁরা সকাল দশটা থেকে বেলা তিনটা
পর্যন্ত অনেকটা শিথিলতা দেখাচ্ছেন। জনগণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর এ শিথিলতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, শহরের প্রবেশ পথগুলোয় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ
সেখানে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সকাল সাড়ে নটা থেকে বেলা দুটা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে মানুষ শহরমুখি
হচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন টিকা নিতে, কেউ যাচ্ছেন রোগী দেখতে, কেউবা যাচ্ছেন
কর্মক্ষেত্রে, অনেকে যাচ্ছেন কাচা বাজার করতে।
তবে মাস্ক ব্যবহার কারীর সংখ্যাই বেশি। মাস্ক নাই এমন লোকের সংখ্যা
নগন্য। কিছু কিছু লোক স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা না করেই মাস্ক ব্যবহার
করছেন। এঁদের কেউ নাক খোলা রাখছেন, কেউ নাক ও মুখ না ঢেকে চিবুকে রাখছেন
মাস্ক; এঁদের সংখ্যা খুব কম।
শহরে রিকশা এবং ব্যাটারি চালিত ভ্যান ও ইজিবাইকেই বেশি সংখ্যক মানুষ
যাতায়াত করছেন। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারেও যাতায়াত
করছেন। অবশ্য শহরের বাহিরে কিছু কিছু লোক সিএনজিতে যাতায়াত করছেন।
ওষুধের দোকান, কাচা বাজার, ফলমূল, বেকারী ও ভূষিমালের দোকান খোলা থাকতে
দেখা গেছে। অবশ্য চুপিসারে দু’একজন চাদোকানের দোকানের সার্টার অর্ধেকটা
ফাঁকা রেখে চা-সিগারেট বিক্রি করছেন।
জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের অধিকাংশ দোকান মালিক সরকারি
বিধিনিষেধ না মেনে মোবাইল ফোন বিক্রি করছে।তাঁরা দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে
রেখে কৌশলে কাষ্টমারদের ভিতরে ঢুকিয়ে বেচা কেনা করছে। পূর্ব বাজার কাপড়
পট্রিতেও অবস্থা এরকম ।
কথা হয় মোবিনুল ইসলাম মনির সাথে। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে টিকা দিতে এসেছি।
খন্দকার লিটন বলেন, আমি জয়পুরহাট গণপূর্ত বিভাগে সরকারি চাকরি করি। যাচ্ছি সেখানেই।
সেলিম সরোয়ার বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায়, আমার একজন আত্মিয়ের
মোটরসাইকেল ধরেছেন পুলিশ। সে জন্য শহরে এসেছি। মন্জুয়ারা বলেন,আমার
মায়ের অসুখ। তাঁকে দেখার জন্য মায়ের বাড়ি করিমনগর যাচ্ছি।
আরাফাতনগরের শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁরা কাচা বাজার করার জন্য এসেছেন।
এছাড়াও অনেকের সাথে কথা হয়। তাঁরা সকলেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর
ব্যবহারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত হোসেন বলেন,
সরকারি নির্দেশনা মেনেই কাজ করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী
ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লোকজন কাচা বাজার করতে, চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে
যাতায়াত করছেন। এজন্য তাঁদেরকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অবশ্য কেউ কেউ জরুরি
প্রয়োজন ছাড়াই ঘুরতে আসছেন। এঁদের সংখ্যা খুব কম। তবে বেলা ৩টার পর
থেকেই পুলিশ কঠোর হচ্ছেন।
Leave a Reply