প্রতিনিধি,পাবনা:
পাবনার ঈশ^রদী উপজেলার রূপপুরে নির্মানাধিন পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার ১১ টি বেসরকারি হাসপাতালের করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯ ) নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অসম প্রতিযোগিতা ও অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই অনুমোদন বাতিল করে।
গত ১৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ( হাসপাতাল-ক্লিনিক) চিকিৎসক মো. ফরিদ হোসেন মিঞা এক পত্রে অনুমোদন বাতিল করে জেলা সিভিল সার্জনকে পত্র দেন। এরপর ১৯ জুলাই জেলা সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রেরিত পত্রে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরে ডিএনএ স্যাম্পুল ও আরটি পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন প্রাপ্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় অস্থায়ী বুথ বসিয়ে করোনা ভাইরাসের স্যাম্পুল কালেকশন ও ঢাকায় এনে পরীক্ষা করছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অসম প্রতিযোগিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন বাতিল করা হলো।
অনুমোদন বাতিল হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, প্রভা হেলথ বাংলাদেশ, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ, এ এম জেড হাসপাতাল, পপুলার ডায়গানস্টিক, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, ডিএনও স্যাম্পুল লিমিটেড, প্রাইম ডায়গানস্টিক, মডার্ন হাসপাতাল ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, রূপপুরে নির্মানাধিন পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল অস্থ্যায়ী বুথ তৈরি করে নমুনা সংগ্রহ করছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন দেবার পর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় তাদের সর্ত সাপেক্ষে তাদের নমুনা সংগ্রহের অনুমোদন দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো রূপপুর থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকায় পরীক্ষা করতো। কিন্তু পরবর্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল। অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সহ নমুনা দেয়া ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করছিল। ফলে তাঁদের নমুনা সংগ্রহর অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নমুনা সংগ্রহর অনুমোদন দিয়েছিলাম। আবার স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ি অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারিতে রেখেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নমুনা সংগ্রহ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply