কুমিল্লা ব্যুরোঃ
এবারের কোরবানির চামড়ায় কুমিল্লার মৌসুমী ব্যবসায়ী সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনেও বিপাকে পড়েছেন। চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। এদিকে টার্নারী মালিকরাও বলছেন বিগত সাত বছরে তারা লাভের মুখ দেখেননি। আপাতত চামড়া মজুদ করেছেন বিক্রি করতে গেলে লাভ ক্ষতি বোঝা যাবে। চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন থেকে তাদের দেওয়া হয়েছে লবন।
কুমিল্লা নগরের ঋষি পট্রি এলাকার রয়েছে ৯টি ট্যানার্রী, নুরপুর, মৌলভী পাড়া, চকবাজার বাস স্ট্যান্ড মিলিয়ে মোট টার্নারি আছে ১৬টি। এবারের ঈদে কোন চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন মিলে তাদের দিয়েছে সাড়ে ৩শ কেজি লবন, পরবর্ত্তী ধাপে আরো দেওয়া হবে। লবন পেয়ে ট্যর্নারী মালিকরাও তাদের চামড়া ভালভাবে সংরক্ষন করেছেন।
নগরের ঋষি পট্রি এলাকার টার্নারী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক হরিদাস ঋষি জানান, জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের লবন পাওয়াতে এবার কোন চামড়া নষ্ট হয়নি। সঠিকভাবে সব চামড়া সংরক্ষন করা হয়েছে। পরবত্তীতে বিক্রি করতে গেলে লাভ ক্ষতি বোঝা যাবে।
ঋষিপট্রির ট্যর্নারী মালিক বিক্রম দাস, রতন ঋষিসহ অনেকে জানান, বিগত সাত বছর ধরে তারা লোকসান দিয়ে আসছেন। এবারও তারা শংকায় আছে কি হয়। সব ঠিকঠাকভাবেই মজুদ করা হয়েছে। বাকিটা বিক্রি করতে গেলে বুঝা যাবে কি হয়।
এদিকে নগরীর সুজানগরের বাসিন্দা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী হাজী আমির হোসেন জানান, সরকারি নির্ধারিত দামে তিনি ৬৫টি চামড়া কিনেছেন ৩২ হাজার টাকায়, বিক্রি করেছেন ২৮ হাজার টাকায়। তার সাথে চামড়া ক্রয়ে জরিত স্টাফদের পারিশ্রমিক দিয়ে অনেকটায় লোকসান হয়েছে। আরেক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী সুমন মিয়া জানান একই কথা। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনেও তিনি বিপাকে পড়েছেন। চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে তাই নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করেছেন।
নগরীর চকবাজারের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, চামড়া কিনেও বিপদে পড়েছি, চামড়ার আড়তদাররা মনে হয় আমাদের দয়া দেখিয়ে চামড়াগুলো কিনেছেন। তারা চামড়া না কিনলে চামড়া পুতে ফেলতাম।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য কুমিল্লা জেলায় ঈদের পূর্ব থেকেই ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা চামড়া সংগ্রহকারী, সংরক্ষণকারী, চামড়া ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসায় যারা বিভিন্নভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে থাকে তাদের সাথে একাধিক সভা করে বিষয়টি সমন্বয় করেছেন। এরই অংশ হিসাবে কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথ সংরক্ষণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমিলা জেলায় ৫ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। নগরীর ঋষি পল্লীতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুসহ চামড়া সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ও সহযোগিতায় এবার একটি চামড়াও নষ্ট হয়নি, আমরা তাদের সহযোগিতার জন্য লবন উপহার দিয়েছি। সাপ্তাহ খানেক পরে আবারও লবন দেওয়া হবে। যাতে রাষ্ট্রিয় সম্পদ নষ্ট না হয়।
কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সরকারি নিদের্শনা মতে একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়। সে লক্ষে চামড়া সংরক্ষণকারীদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের প্রাথমিক ভাবে কিছু লবন দিয়েছি। পরবর্ত্তীতে আরো লবন দেওয়া হবে।
Leave a Reply