এনামুল হক রাশেদী, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমন আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষনার প্রথম দিনে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় লকডাউন কার্যকর ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন বাঁশখালী থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ সারাদিন মাঠে তৎপর থাকলেও বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার সহ গ্রামীন জনপদের ছিত্র ছিল ভিন্ন। সকাল এবং বিকালে ছনুয়া, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, শেখেরখিল, সরকারবাজার, মিনজিরতলা, সরল হারুনবাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় মানুষ দলে দলে ঈদের উৎসবে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাজারে। হাট-বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে দলে দলে মানুষ আড্ডায় মেতেছে উৎসবের আমেজে। যেখানে ছিলনা কোন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই।২৩ জুলাই’২১ ইং শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বাঁশখালীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংক্রামক রোগ(প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মুল) আইন- ২০১৮ এর আওতায় ৪টি মামলা দায়ের করে ১০০০/- জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট আশিকুর রহমানসহ একদল সেনাসদস্য।অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, সারাদেশে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, কোন অবস্থাতেই বিকাল ০৩ টার পর কোথাও কোন কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকান খোলা রাখা যাবে না। কেউ যদি আইন অমান্য করে দোকানপাট খোলার চেস্টা করে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোন মুল্যে দেশ ও জাতীর বৃহৎস্বার্থে লকডাউনকালীন সময়ে সরকারের বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বাঁশখালীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হলেও সকাল-সন্ধ্যায় গ্রামের হাট-বাজারগুলো ছিল ঈদের উৎসবে লোকে লোকারন্য। যেখানে ছিলনা কোন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবনতা, এমনকি কারো মুখে ছিলনা মাস্কও। সন্ধ্যার পর হাট-বাজার-স্টেশনের চায়ের দোকানগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই ছিলনা। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে দল বেঁধে বেঁধে লোকজনকে লম্বাসময় ধরে আড্ডা জমাতে দেখা গেছে। করোনা সংক্রমনের উর্দ্ধগতির মহাসংকটকালে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষনার পরও সাধারন জনগনের উদাসীনতা ও বেপরোয়া মনোভাবে এলাকার সুশীল সমাজ শংকিত ও বিস্মিত। সচেতন মহলের অভিমত, গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকলে লকডাউনের কাংখিত ফলাফল অর্জন কোন অবস্থাতেই সম্ভব হবেনা।
Leave a Reply