গাজী তাহের লিটন, জেলা প্রতিনিধি:
বড় ছেলে হাসপাতালে! সে ক্যানসারের রোগি।পেটে টিউমার থেকেই রোগটির সূত্রপাত। এখন জীবন তার অনিশ্চিত যাত্রাপথে! ছেলেকে বাঁচাতে বাবা হাটবাজারে ঘুরছেন সাহায্যের জন্য!আজ সোমবার(১৯ জুলাই) সকালে এসেছিলো দ্বীপজেলা ভোলার উপশহর কুঞ্জেরহাটে।সেখানেই দেখা মিলে এ প্রতিবেদকের সাথে।
জানাযায়, মো. হোসেন (৮৬), পিতা মৃত: জুনাব আব্দুল,হেজু পন্ডিত বাড়ি, ৭নং চরভুতা ওয়ার্ড, ৮ নং চরভুতা ইউনিয়ন, লালমোহন, ভোলায় তাঁর বাড়ি। স্ত্রী: রানু বেগম(৬০), ছেলে: ২ জন, সবুজ ও শহিদ ও ১ কন্যা রয়েছে তার। ছেলে ও মেয়ে এরা সবাই বিবাহিত।
একসময় মো. হোসেনের সুখের সংসার ছিলো। হাড়ভাংগুনি পরিশ্রম করেও বেশ ভালোই কাটছিলো তার। যদিও অভাব ঘোচেনি। এখন সে একেবারেই বৃদ্ধ। নিজে চলতেই দায়।আগের মতো কাজ করার শক্তিও নেই। দুই ছেলের ওপর ভর করেই সংসার চলতো কোনোমতে।কিন্তু, হঠাৎ করেই বড় ছেলে পেটে টিউমার থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়।
ছোট ছেলে শহিদ রিকশা চালিয়ে করে সংসারে মোটামুটি যোগান দিতো,কিন্তু বড় ভাইয়ের চিকিৎসার পেছনে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে এখন সেও দিশেহারা। সংসারে বৃদ্ধ মোহাম্মদ হোসেন ভিক্ষা করে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে যোগান দিচ্ছে। দিন শেষে ২/১ শত টাকা হয়তো পান! এ সামান্য টাকা দিয়ে সংসারের চাল-ডাল কিনবেন, না ছেলের চিকিৎসা চালাবেন ? এ চিন্তায় পাগলপ্রায়, বয়সের ভারে ক্লান্ত এ বৃদ্ধ আর যেনো ছুটতে পারছেন না।
বৃদ্ধ মো. হোসেন জানান, সরকারি সাহায্যের মধ্যে সম্প্রতি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পায়। কিন্তু, মাসিক ৫ শত টাকায় কী সংসার চলে? এদিকে ছেলের চিকিৎসার পেছনে লাগবে আরো টাকা! ডাক্তার বলেছেন, তার ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে!অসুস্থ ছেলের কথা উঠতেই অঝোৱে কেঁদে ওঠেন তিনি। কোথায় যাবে বৃদ্ধ মোহাম্মদ হোসেন, কে দাঁড়াবে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটির পাশে, সমাজে এমন কি কেউ আছেন?
Leave a Reply