উৎফল বড়ুয়া, সিলেট:
সিলেট নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে তীব্র অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়া, দেশীয় উৎপাদন কম হওয়া ও ঢাকা থেকে সময়মতো অক্সিজেনের গাড়ি না আসার কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট নেই বলে দাবি করছেন কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটে গত ৫ দিন থেকে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে সেটি তীব্র রূপ নিয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে শনিবার রাত পর্যন্ত অক্সিজেন সেবা দিতে পারবেন। নতুন সরবরাহ না আসলে চিকিৎসাসেবা প্রদান চরমভাবে বিঘ্নিত হবে।
জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে হঠাৎ অক্সিজেন সংকট দেখা দেয় সিলেটের সুবহানীঘাটের কমিউনিটি বেইজড ক্লিনিকে। রাস্তায় যানজটে গাড়ি আটকে থাকায় সময়মতো অক্সিজেন আসেনি সিলেটে। এ কারণে অক্সিজেন সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এ ক্লিনিকে যথাসময়ে সিলিন্ডার পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। রাতে অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ক্লিনিকটিতে ভর্তি সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন স্বজনরা। সকাল পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা ওই হাসপাতালে রোগী এবং তাদের স্বজনরা ছিলেন তীব্র আতঙ্কে। এর মধ্যে প্রায় ১১ জন আইসিইউসহ অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপও করেন। কেউ কেউ চলে যান বাড়িতেও।
এভাবে শুধু কমিউনিটি বেইজড ক্লিনিকই নয়, সিলেটের প্রায় প্রত্যেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে একই চিত্র। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অসহায় বলে দাবি করছেন তারা। কয়েকটি কারণে সিলেটে এমন অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়েছে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অক্সিজেন সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সারা দেশে বেড়েছে করোনা ও উপসর্গযুক্ত রোগী। বেশিরভাগ হাসপাতালে বেড খালি নেই। আগের তুলনায় সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসাপতালগুলোতে অক্সিজেন লাগছে অন্তত ৫ গুণ বেশি। এ অবস্থায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান আবুল খয়ের উৎপাদন করছে আগরে মতোই সীমিত আকারে। এছাড়াও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেট-ঢাকা যাতায়াতের সকল সড়কেই রয়েছে তীব্র যানজট। যে কারণে সময়মতো সিলেট পৌঁছতে পারছে না অক্সিজেনের গাড়ি। সব মিলিয়ে গত ৫ দিন থেকে সিলেটে চলছে অক্সিজেন সংকট। এ সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে এখন। সংকটটি দ্রুত কাটিয়ে ওঠারও কোনো উপায় দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
সুবহানীঘাটের কমিউনিটি বেইজড ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মুরশেদুর রহমান শনিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘একটু আগেও আমাদের অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্প্রেক্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের এই মুহুর্তে চাহিদা ৬০টি সিলিন্ডার। কিন্তু আমাদেরকে তারা দিতে পারবেন মাত্র ২৫টি। এগুলো দিয়ে আমরা রোগীদের আজ রাত পর্যন্ত সেবা দিতে পারবো। এরপর আমরা অসহায়। নতুন সরবরাহ না পেলে রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিতে পারবো না।’
অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রেক্টা’র সিলেটের ডিস্ট্রিবিউটর মাসুদ আহমদ শনিবার বিকেলে বলেন, ‘আসলে বিভিন্ন কারণে সিলেটে সময় ও চাহিদামতো অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রথমত সারা দেশে ব্যাপকহারে বেড়েছে অক্সিজেনের চাহিদা। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগী হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় এ চাহিদা বেড়েছে। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। দ্বিতীয়ত: অক্সিজেনের বড় সাপ্লাই পাই আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। এ ক্ষেত্রে বেনাপোল থেকে গাড়ি এসে অক্সিজেন রিলিফ (সরবরাহ) করে দিয়ে যায়। কিন্তু করোনা
Leave a Reply