আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পাহাড়, বন, লেক, নদী বেষ্টিত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রান্তিক এক জনপদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম নিদর্শন ঝর্ণা বা পাহাড়। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ফেলে ঝর্ণা জলে ভিজতে কার না ভালো লাগে। রূপ লাবণ্যের বাংলাদেশে পাহাড়-নদী সবুজে শ্যামলের সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে ভ্রমণ পিপাসুদের। দরকার শুধু একটু সময়ের। মনকে দু’দণ্ড শান্তি দিতেই প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভীড় করে অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। তাহিরপুর উপজেলাটি ভাটি এলাকা হিসাবে পরিচিত হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌর্ন্দযে ভরপুর। এটিকে সুনামগঞ্জ জেলার প্রানকেন্দ্রও বলা হয়। এই উপজেলাটিতে রয়েছে তিনটি শুল্ক ষ্টেশন ,যে ষ্টেশনগুলো দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসে হাজার হাজার মে.টন কয়লা ও চুনাপাথর।বড় বড় ট্রাকে করে ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর এনে এখানে নামানো হয়। কয়লা ভর্তি ট্রাকগুলো যখন হাজার ফিট উচ্চতার মেঘালয় পাহাড়ের আকাঁবাকাঁ পথ দিয়ে নিচে নেমে আসে তখন আপনার মনে হবে এই বুঝি উল্টে গেলো। ট্রাক উঠা নামার দৃশ্যগুলো সত্যিই দেখার মত। প্রতিদিন সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাবসায়ীরা ছুটে আসেন এই এলাকায়। এই উপজেলা থেকে সরকার প্রতি বছর কয়েক’শো কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকেন।
অপরদিকে তাহিরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশি বিদেশী পর্যনটকদের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয় উপজেলাটি। এক কাথায় পর্যটকদের ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও সার্থক করে তুলতে পারে এই তাহিরপুর। সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে ২৫/৩০ কি. মি. দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কুলঘেষা সীমান্ত জনপদ ও হাওরাঞ্চলখ্যাত তাহিরপুর।উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের খাসিয়া, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির দৃশ্য যেন ছবির মতো পটে আঁকা। প্রকৃতি যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে! কী বৃষ্টি কী রোদ, সকল বাধা উপেক্ষা করেই ছুটছেন সবাই। সারা বছরই এই পর্যটন স্পটগুলো শিক্ষার্থী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, দেশ-বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসু ও প্রকৃতি প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। তবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় দৃষ্টি নন্দন স্থানগুলো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রকৃতির রাজপুত্র খ্যাত মেঘালয় পাদদেশস্থ তাহিরপুর প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। দেশী-বিদেশী পর্যটক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছে এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্যে। প্রতিনিয়ত প্রকৃতিপ্রেমিদের ভীড়ে মুখরিত হচ্ছে রূপ-লাবণ্যে ঘেরা ভাটি-বাংলার রূপবৈচিত্রময় এই জনপদ। এখানে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রামসার সাইট ওয়ার্ল্ড হেরিটেজখ্যাত বিশাল জলরাশির টাঙ্গুয়ার হাওর। নীলাভ টাঙ্গুয়ার নয়নাভিরাম দৃশ্য বিশাল হিজল, করচ বাগান। এখানে দর্শনার্থীরা আপন মনে ঘুরছেন মিতালীর সাথে। টাঙ্গুয়ার স্বচ্ছ জলে আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক জগতে। শীতকালে সুদুর সাইবেরিয়া থেকে ঝাকে ঝাকে অতিথি পাখি উড়ে এসে আশ্রয় নেয় এই টাঙ্গুয়ার হাওড়ে। অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম নামে পরিচিত এই হাওড়টির পাড়ে রয়েছে ৮৮টি গ্রাম। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য হাওড় তীরবর্তী গুলাবাড়ি গ্রামের পাশেই নির্মান করা হয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার । ওয়াচ টাওয়ারের উপর দাঁড়ালে দেখা যাবে নান্দনিক সব দৃশ্যপট। ছয়কুড়ি কান্দা আর নয় কুড়ি বিলের সমন্বয়ে প্রকৃতির এক অপরুপ নির্মান এই টাঙ্গুয়ার হাওড়। হাওড়পাড়ে অবস্থিত ৮৮টি গ্রামের মানুষের জীবন জীবিকা এই হাওড়ের
Leave a Reply