বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪ ও উপসর্গ নিয়ে ১ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা রেডজোন ও ইয়োলোজোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এই তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, হাসপাতালে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। এদিকে শুক্রবার যশোর জেলার ৫৯৫ টি নুমনা পরীক্ষার ফলাফলে ১৫৯ জনের করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মৃত্যুর আগে ১৫ জুলাই ৭ জন, ১৪ জুলাই ১০ জন ও ১৩ জুলাই এর হিসাবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। তিনি আরও জানান, মৃত্যু কমলেও করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীদের চাপ রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত হাসপাতালের রেডজোনে ১৫৩ জন ইয়োলোজোনে ৪৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরমধ্যে ২৪ ঘন্টায় দুই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন রোগী। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, মানুষ সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীদের অবস্থা গুরুতর হওয়া আগেই হাসপাতালে ভর্তি করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এতে রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পাবেন। তিনি আরও জানান, রোগীরা শেষ মুহুর্তে হাসপাতালে আসলে অক্সিজেন, আইসিইউ সুবিধা দিয়েও অনেকে মৃত্যুর কাছে হেরে যান। বিলম্বে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে সারিয়ে তোলা অসম্ভব হয়ে যায়। এদিকে, রেডজোন ও ইয়োলোজোনের মৃত্যু রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যানুযায়ী ২৪ ঘন্টায় ১৮ রোগীর মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড রয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে ৫৮৪ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৫৭ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) ল্যাবে ১১ টি নমুনা পরীক্ষায় ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫৮ জন, কেশবপুর উপজেলায় ৭ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৮ জন, অভয়নগর উপজেলায় ১৬ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১৪ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৭ জন, শার্শা উপজেলায় ১১ জন ও চৌগাছা উপজেলায় ১৮ জন রয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ১৬ জুলাই পর্যন্ত যশোর জেলায় ১৬ হাজার ৭শ’ ৩২ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭ শ’ ৮২ জন। যশোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে ২৫৩ জনের। এছাড়া ঢাকায় ৬ জন খুলনায় ৭ জন ও সাতক্ষীরার হাসপাতালে মারা গেছেন ১ জন।
Leave a Reply