মো: নেজাম উদ্দীন (আদালত প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম):
সুপ্রিম কোট, হাই কোর্ট বিভাগেৱ নিদেশ মোতাবেক শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন সকল ফৌজদারী দেওয়ানী এবং ট্রাইবুনাল সমূহের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার( 14 জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্ট বিভাগ বিচার শাখার জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতিতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি ট্রাইব্যুনাল সমূহের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার ( 15 জুলাই) থেকে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারি হলে ১ জুলাই থেকে নিম্ন আদালতে বিচার বন্ধ হয়ে যায়।
14 জুলাই বুধবারের জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আগামী 15 জুলাই হতে 22 জুলাই পযন্ত শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি আইন, 2020 এবং (সুপ্রিম কোর্ট) কর্তৃক জারিকৃত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক সকল প্রকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/আপিল/রিভিশন/বিবিধ মামলাসহ সকল প্রকার শুনানি গ্রহণ (সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত) ও নিষ্পত্তি করা যাবে।
শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণপূর্বক সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে।
আসামি আত্মসমর্পণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে আবেদন দাখিল করতে পারবেন। শুনানির পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে বলা হয়েছে, যাতে আদালত প্রাঙ্গণ এবং আদালত ভবনে জনসমাগম না ঘটে।
শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য কেউ এজলাস কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। একটি আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস ছাড়ার পর বিচারক পরবর্তী দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।
দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের উপস্থিতি অতিব অবশ্যক নেই সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী হাজিরা প্রদান করিবেন। জামিন শুনানি ও আমলি আদালতের ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনভাবে আদালত প্রাঙ্গণে বা এজলাসে হাজির না করার জন্য বলা হয়ছে। তবে হাজতি আসামির রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে আসামিকে ভার্চুয়ালি দেখে ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড শুনানি নিতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেটকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি ট্রাইবুনাল সমূহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগে থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্ট বিভাগ থেকে জারিকৃত নির্দেশনা মোতাবেক আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে অধস্তন আদালতে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে দেওয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ আইনজীবীদের স্বস্তি ফিরেছে।
তবে হাই কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত উক্ত বিজ্ঞপ্তির আলোকে অধস্তন আদালতে শারীরিক স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মহামারী করোনাভাইরাস রোধ কল্পে বিজ্ঞ আইনজীবিদেৱকে বার বার সচেতন করা হচ্ছে এবং সমিতির পক্ষ থেকে কতেক বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এ এইস এম জিয়াউদ্দিন। তিনি আরও বলে অধস্তন আদালত খুলে দেওয়াতে জামিন যোগ্য ধারার আসামীরা জামিনের সুযোগ পাবেন। জামিন যোগ্য ধারার আসামীরা অনেক সময় একবার শুনানী করলে জামিন পায় কিন্তু আদালত বন্ধ থাকাতে অনেকে দীঘদিন হাজত ভোগ করছেন। আদালত খোলে দেওয়াই বিচারপ্রাথীরা ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশা করি।
Leave a Reply