বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার তালতলীতে মো.শাহাদাত হোসেন (২৩) নামের এক সাংবাদিকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকা ও দৈনিক অধিকারের তালতলী প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত।জুয়া খেলা ও ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে।এমন অপকর্মের ফলে উপজেলার সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন।
জানা গেছে, বড়বগী ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের মো.শাহজালালের ছেলে মো.শাহাদাত হোসেন সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।সাংবাদিক পরিচয়ে গ্রামে গঞ্জে চাঁদার টাকা পরিবর্তে মহিলাদের কাজ থেকে ডিম আনার অভিযোগ রয়েছে।তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিম আনার রহস্য ছড়িয়ে পড়ে।তালতলী সাংবাদিক ফোরামের অর্থ বিষয়ক পদে থাকাকালীন সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকালাপের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।এরপর কোনো উপায় না পেয়ে তালতলীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে ধন্না ধরে।ধন্না ধরেও কোনো প্রতিকার হয় নি।অনেক ঘোরাঘুরি করে সাংবাদিক ইউনিয়নের বহিস্কৃত ইউসুফ আলী ও ধর্ষণ মামলার আসামী আবুল হাসানের যোগসাজশে একটা ভুয়া কমিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং জাতীয় পত্রিকাসহ অনলাইনে প্রকাশ না করে একটা পকেট কমিটি করে।সেই ভুয়া পকেট কমিটিতে দায়িত্ব পায় সাংগঠনিক বিষয়ক হিসাবে।সোশ্যাল মিডিয়া দাবি করে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কিন্তু শাহাদাত হোসেন সাংবাদিক ইউনিয়নের কোনো সদস্য ছিল না।সাংবাদিক শাহাদাতের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা রয়েছে।সংগঠনের সভাপতি বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে।শাহাদাত হোসেনের বিভিন্ন কর্ম কান্ডের ফলে তার স্ত্রী গত ৮জুন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলা দায়েন করেন।অপকর্মের ভিডিও এখন উপজেলার অধিকাংশ মানুষের মোবাইলে ভেসে বেড়াচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, সাংবাদিক শাহাদাত একটি কক্ষের ভিতরে বসে ইয়াবা সেবনের সময় জনতার হাতে গন ধোলাইর সাড়ে চার মিনিটের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়ে।জনতার হাতে ধরা খাওয়ার পড়ে শাহাদাত শিকার করে এবং নিজের মুখে বলে এক ছোট ভাই বরগুনা থেকে পাঁচ পিচ ইয়াবা দিয়ে গেছে।জনতার হাতে মার খেয়ে শিকার করে তালতলীতে আর থাকবে না ঢাকা চলে যাবে।গত কয়েক দিন ধরে ভিডিওটি ভাসছে।এছাড়াও নিয়মনীতি ও বড়দের কথা গ্রাহ্য না করে সে উদ্ভট ভাবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালিপাড়া এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা জানান,সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে প্রশাসন জনপ্রতিনিধিসহ দায়িত্বশীলদের ভূমিকা পালন করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু উল্টো চিত্র সাংবাদিক শাহাদাতের অপকর্মের কোনো শেষ নেই।এলাকার বিভিন্ন রকমের ছেলেদের নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে থাকে।এলাকাসহ তার অপকর্মের ভিডিও দেখে সমালোচনার ঝড় বইছে।এলাকায় ওই ইয়াবা সেবনের রাজাত্ব চলতে থাকলে একদিন ইয়াবার এলাকা নামে পরিচিত হবে।এমন অপকর্মে আমরা বিব্রত।
তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বেলাল বলেন,শাহাদাতের ইয়াবা সেবনের সময় জনতার হাতে মার দেয়ার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পরলে দেখে সত্যতা নিশ্চিত করতে পারি।সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য না।ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ নিন্দা জানাই।
ভুক্তভোগীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিক শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
Leave a Reply