আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর,ময়মনসিংহঃ
ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি @ বৃষ্টি (৯) কে অপহরন,অপহরন পরবর্তী ধর্ষন পূর্বক হত্যা মামলা রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।গ্রেফতারকৃত সন্ধিগ্ধ আসামী নজরুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
কটিয়াদী থানার মামলা নং-০৪, তাং-০২/০৭/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(২)নং মামলার সূত্রে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেন।সূত্র জানায়,মামলার বাদী মোঃ চুন্নু মিয়া মাছ ধরার জন্য কটিয়াদী থানাধীন লোহাজুরী সাকিনস্থ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীতে যায়। প্রতিদিনের মতো উক্ত তারিখ সকাল অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় বাদীর ছোট মেয়ে ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টি(০৯) মাছ আনার জন্য নদীর ধারে যায়। ঐ দিন পর্যাপ্ত পরিমানে মাছ ধরতে না পাওয়ায় বাদী তাহার মেয়ে সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টিকে বাড়ীতে চলিয়া যাইতে বলে। বাদীর মাছ ধরা শেষ হলে উক্ত তারিখ সকাল অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় জাল ও মাছ নিয়ে চলে আসিয়া ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টিকে তাহার বাড়ীতে খোঁজতে থাকেন।পরে আশে পাশের বাড়ীতে খোঁজ করিয়া না পেয়ে আরো লোকজন সহ নদীর ধারে খোঁজা খুঁজি করে। এক পর্যায়ে জনৈক জয়নাল(৪৫) পিতামৃত-ইউনুছ আলী, সাং-দক্ষিন লোহজুরী, থানা-কটিয়াদী, জেলা-কিশোরগঞ্জ এর পাট ক্ষেতে বাদীর স্ত্রী,বাদীর চাচাতো শালি,চাচাতো শ্যালক ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টির পা দুটি কাঁচা পাট গাছে পেচানো এবং গলায় ওড়না দিয়ে পেচানো অবস্থায় চিৎ হয়ে দেখতে পাইয়া চিৎকার দিলে বাদীসহ আশে পাশের লোকজন সেখানে গিয়ে ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টির মৃত দেহ দেখতে পায়। উক্ত বিষয়ে কটিয়াদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ইন্সঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম এর উপর মামলার তদন্তভার অর্পন হয়। জানা যায়,ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি @ বৃষ্টি (৯) কে হত্যার পর হতে পিবিআই, কিশোরগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন ইউনিট উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখেন। সূত্র জানায়,মামলাটি পিবিআইতে হস্থান্তরের পর ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি @ বৃষ্টি (৯) কে ধর্ষন করে হত্যা মামলাটি পিবিআই সিডিউলভূক্ত হওয়ায় পিবিআই গত ১১/০৭/২০২১ খ্রিঃ মামলাটি অধিযাচন করে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাখরুল হক খান এর উপর তদন্তভার অর্পন করেন। উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বস্থ সোর্স নিয়োগ করে সন্দিগ্ধ আসামী নজরুল ইসলাম(৩৫), পিতা-ছমর উদ্দিন, মাতামৃত-রহিমা খাতুন, সাং-দক্ষিন লোহাজুরী, থানা-কটিয়াদী, জেলা-কিশোরগঞ্জকে ইং ১৩/০৭/২০২১তারিখ সময় অনুমান ভোর বেলায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন বাড়ইপাড়া এলাকা হইতে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামী ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি @ বৃষ্টি (৯) কে অপহরন, অপহরন পরবর্তী ধর্ষন পূর্বক হত্যা করেছে মর্মে নিজেকে জড়িয়ে বিজ্ঞ বিচারক সাদ্দাম হোসেন বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কিশোরগঞ্জ এর নিকট ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রদান করেছে। সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ পায় যে, উক্ত আসামী ঘটনাস্থলের নিকট তার কাকরল ক্ষেতে বৃষ্টির জমা পানি নামানোর জন্য জমিতে যায়। জমি হইতে পানি নামিয়ে বাড়ীতে আসার সময় পাটক্ষেতের ধারে ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টিকে দেখতে পাইয়া আসামী ভিকটিমকে ধর্ষনের জন্য জড়িয়ে ধরিলে ভিকটিম এই কথা তাহার মা-বাবার কাছে বলে দিবে বলিয়া জানায়। আসামী তার বাম হাত দিয়ে ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@বৃষ্টির মুখ চাপিয়া ধরিয়া অপহরন, অপহরন পূর্বক নিকটবর্তী পাটক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়। ভিকটিম টুনিকে পাটক্ষেতের ভিতরে শুয়াইয়া ডান হাত দিয়ে ভিকটিমের পায়জামা খুলিয়া ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ভিকটিম সাদিয়া আক্তার টুনি@ বৃষ্টি বেশী নড়াচড়া করে বাচার চেষ্টা করিলে উক্ত আসামী ভিকটিমের বাম হাত দিয়ে মুখে এবং ডান হাত দিয়ে গলায় চাপ দিয়ে ধরে। আসামী নজরুল ইসলাম ভিকটিমকে অপহরন, অপহরন পরবর্তী ধর্ষন পূর্বক হত্যা করে পাট ক্ষেত (ঘটনাস্থল) হতে বের হয়ে বাড়ীতে চলে যায়। ঘটনার পর উক্ত আসামী স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে। পরবর্তীতে উক্ত আসামী গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পলাতক হয়ে সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়া অবস্থান করে।পিবিআই সূত্রে জানা যায়,মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a Reply