বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ঘোষণার আড়াই মাস পরেও টাকা পাননি যশোরের ৪৫৩ নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৪১৯ জন শিক্ষক কর্মচারী। শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে নাম, পদ, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ভুল হওয়ার কারণে প্রণোদনা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা। তালিকা সংশোধন করে ৩ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষক ও ১ হাজার ১৮২ কর্মচারী মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। টাকার পরিমাণ ১৬কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, গত মে মাসে ঈদুল ফিতরের আগে করোনাকালীন সময়ে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের প্রণোদনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষকদের ৫০০০ ও কর্মচারিদের ২৫০০ টাকা করে দেয়া হয়। এ টাকা বিতরণের দায়িত্ব পায় শিক্ষা অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী জেলা শিক্ষা অফিস তালিকা তৈরি করে যশোরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিছু ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীকে প্রণোদনার টাকা দেয়া হলেও বেশির ভাগ শিক্ষক এ টাকা পায়নি। জুন মাসের প্রথম দিকে আবার তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা দেয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা অফিসার। ২০২০ সালে টাকা পেলেও ২০২১ সালে নানা অজুহাতে প্রধানমন্ত্রীল প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষকরা। এরমধ্যে আবার অনেকে আছেন যারা ২০২০ সালের প্রথম দফা প্রণোদনাও পাননি। যারা একবারও প্রণোদনা পাননি তাদের মধ্যে ৩৭ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৯৩ জন শিক্ষক, ৯০ জন কর্মচারী, ১২৬টিমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৯৬ শিক্ষক,১৯৩ জন কর্মচারী, ১৭টি স্কুল এন্ড কলেজের ২৬৩ শিক্ষক,১৬৯ কর্মচারী, ২১টি কলেজের ২৭৭ শিক্ষক, ১৩৪ কর্মচারী, ৪৬টি ডিগ্রি কলেজের ৬২৫ জন শিক্ষক,২২৫ কর্মচারী, ৮৫টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ীর ৩৪২ শিক্ষক, ১৬ন কর্মচারী, ৪৮টি দাখিল মাদ্রাসার ৫০১ জন শিক্ষক ১৩৯ কর্মচারী, ১৪টি আলিম মাদ্রাসার ৩৬ জন শিক্ষক,৬ জন কর্মচারী, ২টি ফাজিল মাদ্রাসার ১জন শিক্ষক,৫জন কর্মচারী, ১টি কামিল মাদ্রাসার ১জন শিক্ষক,১৯টি এসএসটি ভোকেশনালের ৫২ শিক্ষক,৩৬ জন কর্মচারী, ১টি দাখিল ভোকেশনালের ২জন শিক্ষক,১ কর্মচারী, ২৩টি এইচএসসি (বিএম) এর ৯৮ শিক্ষক ৫৩ কর্মচারী, ৬টি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৬০ জন শিক্ষক,২২ কর্মচারী রয়েছেন। যশোর বিসিএমসি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান জানান ২০২০ সালে প্রণোদনা পেলাম ২০২১সালে কোন কারণে পেলামনা তা জানতেও পারলাম না। এমনকি শিক্ষা অফিস থেকে কলেজে কোন তথ্য জানানো হয়নি। অনুরূপ কথা জানান একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল আলম। এমএসটিপি গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম জানান ঈদুল ফিতরের সময় প্রথবার তার স্কুলের ১৫জন শিক্ষক, ৭জন কর্মচারীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রণোদনার টাকা পাননি। দ্বিতীবারও তাদের তালিকা শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। যশোর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী সাজ্জাদ হোসেন জানান অনেক শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, পদ, ভোটার আইডি নম্বর ভুল হওয়ার কারনে টাকা পাননি। তারা অফিসে আসলে সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসটি শাম্মী ইসলাম জানান, শিক্ষকদের তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় থেকে টাকা দেয় তাহলে শিক্ষকরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হবে।
Leave a Reply