রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
আদমদীঘিতে টুং টাং শব্দে সরগরম কামার পল্লী।

আদমদীঘিতে টুং টাং শব্দে সরগরম কামার পল্লী।

মোঃ সজীব হাসান,,আদমদীঘি (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ

করোনার মহামারীর মধ্যেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত কামারের দোকান গুলোতে টুং টাং শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে কামার পল্লীতে।আদমদিঘীতে লকডাউন এর কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও ব্যাপক চাহিদা থাকায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীদের। রাতভর টুংটাং শব্দে লোহার যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত আদমদীঘি উপজেলার কামার শিল্পীরা। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে তারা রামদা, কাটারি, , চাপাতি,বটি ও ছুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। একটু ফরসুত নেই তাদের। কোরবানী গবাদিপশু জবাই করতে এবং মাংস তৈরীতে রামদা,  ছুড়ি, চাপাতি ও কাটারী বেশি প্রয়োজন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই আদমদীঘি উপজেলার পৌর শহর সহ বিভিন্ন হাট বাজারের কামার পাড়ার শিল্পীদের। দিনরাত সমান তালে লোহার টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রতিটি কামারপাড়া। কামারপাড়া গুলোতে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে, আর কিছুদিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির পশুজবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত আর এর উপকরণ তৈরি ও শান বা লবন-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের। পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় উপকরণেরঅভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান এ শিল্পের কারিগররা। ক্রেতাদের অভিযোগ করোনা মহামারীর অজুহাতে এবছর এসব জিনিসের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বেশকিছু কামারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এই শিল্পের প্রধান উপকরন লোহা ইস্পাত ও কয়লার দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তাছাড়া করোনা মহামারীর কারণে এ শিল্পের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা।কামার জানান বছরের ১১ মাস তাদের ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসা হয় আরেকরকম। শান দেয়া নতুন দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে।   জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা।প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অব্দি চলছে কাজের ব্যস্ততা।বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তুু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিন-রাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না। আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম বাজরের শ্রী গনেশ কর্মকার বলেন, প্রার ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এই কাজ করছি। ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে। তবে করোনার প্রভাবে এখনো পর্যন্ত সেই রকম কাজের চাপ না থাকলেও আশা করছি চাহিদা আরো বাড়বে। আগে এই সময়টা থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হত।কারিগররা আরো জানান, কাঁচা-পাকা লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় ধাতব যন্ত্রপাতি। তবে পাকা লোহার দা-ছুরির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে এবং বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে।ঈদুল-আজহা সামনে রেখে  উপজেলার সান্তাহার হাট খোলা বাজারের কামার আরমান জানান দোকানগুলিতে মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।তিনি জানান বড় মাপের একটি কাটারি ৪০০–৫০০ টাকা এবং ছোট মাপের একটি কাটারি ৩০০–৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া বড় মাপের একটি বটি ৩৫০–৪৫০ টাকা এবং ছোট মাপের একটি বটি ১৫০–২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এবং চামড়া ছিলার জন্য চাকু ৪০–৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কামারা জানান সরকার যদি তাদের প্রতি একটু নজর রাখেন তাহলে তারা তাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্য এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com