মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লায় বসবে ৩৬১ কোরবানির পশুর হাট। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোঠার ব্যবস্থা নিবে জেলা প্রশাসন। এদিকে হাটে পরিবর্তে অনলাইনে ও খামারিদের বাড়িতে গিয়ে পশু কেনার কথা বললেন জেলা প্রশাসন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের কোরবানির অনলাইন প্লাটফর্ম অনলাইন পশুর হাট সূত্রে জানা যায়, এবারের কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলায় মোট ৩৬১ টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে এবার কুমিল্লা সিটিতে বসবে না কোন পশুর হাট।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে করোনা মহামারি সংক্রমন রোধে কুমিল্লায় জেলা প্রশাসনের অনলাইন পশুর হাট, (ঙহষরহব চধংঁৎ ঐধধঃ ঈঁসরষষধ), ঘরে বসে অনলাইনে কোরবানির পশু কিনতে মোবাইল এপ্লিকেশনটি ডাউন লোডে গুগল প্লেষ্টোরে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে এ অনলাইন পশু হাট। এখানে গত শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৭টি উপজেলার ২০ হাজার ৯৩টি পশুর তথ্য বিক্রির জন্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাড় রয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৩টি, গাভী ২ হাজার ৮৫৯টি, বকনা ৮৯০টি, বলদ ১ হাজার ৩৭৭টি, মহিষ ৪৩টি, ভেড়া ৬০টি ও ৮৯১টি ছাগল রয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রানী সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে চালু হওয়া অ্যাপসটিতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কর্মকর্তারা বিভিন্ন খামাড়ে গিয়ে পশুর তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে অ্যাপসটিতে আপলোড করে। তবে অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে অনেকের মনে স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্থিতে রয়েছে অনলাইনের বাহিরে থাকা বেশিরভাগ খামারি ও ক্রেতারা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিনের সুয়াগাজী বাজারের আর্দশ খামারের মালিক কামাল উদ্দিন, মায়ের দোয়া খামারের মালিক আমিনুল ইসলাম, কোদালিয়ার আরিফা ডেইরি ফার্মের মালিক আনিসুর রহমানসহ অনেকে জানান, জেলা প্রশাসনের এ্যাপস্টি থাকার অনেকটা উপকার হয়েছে। অনেক দুরদুরান্ত থেকে মানুষ আসে খামারে, পশু কিনে নিচ্ছে। অনলাইনে পশু কেনাবেচার সাথে বিভিন্ন বাজারেও পশু গুলো তোলা হবে।
কুমিল্লার লালমাই কলেজ রোডের কৃষক মতিন মিয়া জানান, ঠিকমত মোবাইল চাপতে পারিনা, আর নেট চালামু কেমনে। যারা বড় বড় খামার করে তাদের লাইগ্যা এটা ঠিক আছে। স্থানীয় বাজারই আমাদের ভরসা।
নগরের চকবাজারের বাসিন্দা কাশেদুল হক চৌধুরী জানান, বাজারে না গিয়ে বিভিন্ন খামারে পশু দেখছি। খামার থেকেই পশু কিনার ইচ্ছা আছে। সুবিদা করতে না পারলে হাটে যেতে হবে।
নগরীর সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন অন্তর বলেন, ঘরে বসেই প্রতিদিনই অনলাইনে পশু দেখছি, পছন্দ হলে কিনে নিব।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, পশুর হাটে করোনা যাতে না ছড়িয়ে পরে এ জন্য অনলাইনে পশু বিক্রয়ের জন্য প্রতি ইউনিয়নে ২ থেকে ৩ জন কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। গত বছর করোনা সংকটের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমিল্লায় কোরবানির হাট’ নামে মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটেরও উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং জেলার খামারি, কৃষক এবং ক্রেতা এ হাটের কারণে উপকৃত হয়েছিলেন। এবারও খামারিরা অনলাইনে কেনাবেচায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহাদাত বলেন, কুরবানির পশু কিনতে অনলাইনের পাশাপাশি খামার থেকে পশু কেনার জন্য জনসাধারনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর পশুর হাট গুলাতে আমাদের তদারকি টীম থাকবে, শতভাগ মাস্ক নিশ্চিতসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি পালনে তারা কাজ করবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়,এবারের ঈদুল আযহায় জেলার ৩০ হাজার ১৮৮ জন খামারি পশু মোটাতাজা করণ করেছেন ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩ শত ৪৫ গবাদি পশু। ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে ২লক্ষ ৩৭ হাজার গবাদি পশু। জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আছে ১ হাজার ৩ শত ৪৫ টি পশু।
Leave a Reply