আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরউপজেলাটি।সেই উপজেলার রুপের রানীখ্যাত সীমান্ত নদী যাদুকাটা, চানপুর ছড়া, বড়ছড়া, লাকমাছড়া, কলাগাও ছড়াসহ ভারত থেকে নেমেআসা প্রতিটি নদীতে গিয়ে একটি দৃশ্য প্রথমেই সবার চোখে পড়বে।প্রতিটি সীমান্ত নদীতে হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু বৃদ্ধরা দলবেধেকয়লা কুড়াচ্ছেন। যা থেকে সংসার চলছে সীমান্ত জনপদে বসবাসরতঅধিকাংশ অসহায় পরিবারগুলোর।কিন্তু বিগত এক বছর যাবৎসীমান্তের খেটে খাওয়া মানুষজন কতৃক পাহাড়ি ছড়া বা নদী দিয়ে ঢলেরপানিতে ভেসে আসা বাংলা কয়লা কুড়ানোয় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যরা।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার জঙ্গলবাড়ীসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী কামরুন নাহার, দ্বিতীয়শ্রেণির ছাত্রী ফজিলা, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সামসুন নাহারসহ এলাকারঅনেক স্কুল পড়–য়া কোমলমতি শিশু পাহাড় থেকে বয়ে আসা ছড়াথেকে কয়লা উত্তোলন করে সেই কয়লা বিক্রি করে পরিবারের অভাবঘোছায়। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের চারাগাও সীমান্ত ফাঁড়ীর মেইন পিলার ১১৯৪ এরসাব পিলার ৩ এর পাশ দিয়ে মেঘালয় থেকে বয়ে আসা জঙ্গলবাড়ীছড়ায় কয়লা কুড়াচ্ছে এরকম অনেক কোমলমতি শিশু। এসময়প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সামসুন নাহারের।সে জানায় সারাদিনকয়লা তুল্লে (তুললে) এক বস্তা কয়লা অয়। একবস্তা কয়লা তিন শ টেহাদিয়া বেছি (তিনশত টাকা দিয়ে বিক্র করি) সেই টেহা বাইত নিয়া বাফেরকাছে দেই (বাবার কাছে দেই)। বাফ হেই টেহা দিয়া বাজার থাইক্যা ছাইলডাইল মাছ তরকারী কিন্যা আনে ( বাবা সেই টাকা দিয়ে বাজার থেকেচাল, ডাল, মাছ, তরকারীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনেন)।
সীমান্ত এলাকায় এরকম শত শত শিশু কিশোর রয়েছে যারা প্রতিদিনপাহাড় থেকে নেমে আসা এসব ছড়া থেকে কয়লা ও পাথর উত্তোলনকরে সংসারের অভাব দূর করতে বাবা মাকে সাহায্য করে। এর মধ্যেঅনেক শিশুরই নেই বাবা মা আত্মীয় স্বজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকস্থানীয় এলাকাবাসীর অনেকেই জানিয়েছেন, এসব কুড়ানো কয়লা স্তুপকরে রেখে পরে এক সঙ্গে বিক্রি করা হয়। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এইকোমলমতি শিশুদের রক্ত পানি করে উঠানো এসব কয়লা এখন আরকেউ কিনতে চায়না। তার কারন হিসেবে জানা যায়, যেসব ব্যবসায়ীরাএসব কুড়ানো বাংলা কয়লা খরিদ করেন তারা বিজিবি সদস্যদের বাধারকারনে খরিদকৃত এসব কয়লা বিক্রি করতে পারেননা। যার কারনে পূর্বেখরিদকৃত প্রচুর কয়লা এখনো পর্যন্ত মজুত রয়েছে। এলাকাবাসীসহস্থানীয় জনপ্রতিনিধি এ প্রতিবেদককে বলেন, সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবিরঅধিনায়ক মহোদয় এলাকার হত দরিদ্র্ মানুষের কথা বিবেচনা করে যদিএই অসহায় খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে সীমান্ত ছড়াগুলোর ১৫০গজবাইরে থেকে কয়লা তুলার অনুমতি দেন তাহলে এসব অনাহারীঅর্ধ্বাহারী দরিদ্র্য খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অনটন কিছুটা হলেওলাঘব হতো। কয়েক হাজার পরিবার দুবেলা পেট ভরে দুমুঠো ভাত খেতেপারত। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়কলে.কর্ণেল তসলিম এহসানের সহযোগীতা কামনা করেছেনজনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগন।
এ ব্যাপরে জানতে সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়কলে. কর্ণেল তসলিম এহসানের সরকারি নাম্বারে(০১৭৬৯-৬০৩১৩০) যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভবহয়নি।
Leave a Reply